পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রতিটি অভিভাবকই চান তার সন্তান পড়াশোনায় সেরা
হোক। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, হাজার চেষ্টা করেও সন্তানকে পড়ার টেবিলে বসানো
যাচ্ছে না বা সে পড়লেও মনে রাখতে পারছে না।পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮
টি উপায় সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
পড়াশোনায় অনীহা কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি মানসিক অবস্থা যা সঠিক পরিবেশ এবং
আচরণের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আমরা আলোচনা
করব কীভাবে ধাপে ধাপে আপনার সন্তানের পড়ার প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনা যায় এবং তাকে
একজন সফল শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
পেজ সূচীপত্রঃ পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
- পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
- পড়ার জন্য একটি শান্ত ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করুন
- নির্দিষ্ট রুটিন এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন
- ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার দূর করার কৌশল
- ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন
- পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী করে তুলুন
- সন্তানের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ কমান
- পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় সংক্ষেপে সমাধান
- সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব নিশ্চিত করা
- সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহমর্মী আচরণ করুন
- সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন পড়াশোনায় মন বসানোর কার্যকরী সমাধান
- শেষ কথাঃ পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় সন্তানের ওপর রাগ করার আগে আমাদের
বুঝতে হবে সে কেন পড়তে চাচ্ছে না। অনেক সময় পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ বা কঠিন
বিষয়বস্তু শিশুর মনে ভীতি সৃষ্টি করে। এছাড়া পারিবারিক অশান্তি, অতিরিক্ত মোবাইল
ফোনের আসক্তি বা শারীরিক দুর্বলতাও মনোযোগ নষ্টের কারণ হতে পারে। আপনি যদি
সমস্যার মূলে পৌঁছাতে না পারেন, তবে কোনো সমাধানই স্থায়ী হবে না। তাই সন্তানের
সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং তার মনের কথা শোনার চেষ্টা করুন।
পড়াশোনায় মন না বসার একটি বড় কারণ হতে পারে চোখের সমস্যা বা মাথা ব্যথা, যা শিশু
অনেক সময় গুছিয়ে বলতে পারে না। এছাড়া স্কুলের কোনো শিক্ষক বা সহপাঠীর আচরণ তাকে
মানসিক চাপে রাখছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে ঠিক
কোন কারণে সে পড়ার টেবিল এড়িয়ে চলছে, তখন সেই নির্দিষ্ট বাধাটি দূর করা অনেক সহজ
হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, তিরস্কার নয় বরং সহমর্মিতাই শিশুর শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে অনেক শিশু মনোযোগের ঘাটতি বা বিশেষ কোনো শিখন সমস্যায় ভোগে, যেখানে তারা
এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
প্রয়োজন হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক রুটিন এবং ধৈর্যের মাধ্যমেই এই
সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। শিশুর ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে অবহেলা না করে সেগুলোর
গভীরে গিয়ে সমাধান খুঁজলে পড়াশোনার প্রতি তার ভীতি দূর হবে এবং সে নিজে থেকেই
পড়তে আগ্রহী হবে।
আপনার সন্তানকে সময় দিন এবং তার প্রতিদিনের ভালো লাগা ও মন্দ লাগার খবর নিন। অনেক
সময় অভিভাবকের অতি-শাসন শিশুকে জেদি করে তোলে, ফলে সে পড়াশোনার প্রতি অনীহা
প্রকাশ করে। শান্ত মাথায় সমস্যার উৎস খুঁজে বের করাই হলো প্রতিকারের প্রথম ধাপ।
সঠিক কারণ না জেনে জোর করে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখলে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া
সম্ভব নয়।
পড়ার জন্য একটি শান্ত ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করুন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ পড়াশোনার জন্য পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। একটি অগোছালো বা কোলাহলপূর্ণ ঘরে বসে কোনো শিশুই মনোযোগ দিতে
পারে না। সন্তানের পড়ার ঘরটি যেন আলোকিত এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের উপযোগী হয়
সেদিকে খেয়াল রাখুন। পড়ার টেবিলটি অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা গজেট মুক্ত রাখুন যাতে তার
মন অন্যদিকে সরে না যায়। ঘরের দেয়ালের রঙ এবং আসবাবপত্রও যেন চোখের জন্য আরামদায়ক
হয়।
পড়াশোনার সময় টেলিভিশন বা উচ্চশব্দের গান বাজানো থেকে বিরত থাকুন। যখন শিশু পড়তে
বসবে, তখন পরিবারের অন্য সদস্যরাও যেন উচ্চস্বরে কথা না বলে। একটি শান্ত পরিবেশ
শিশুর মস্তিষ্ককে তথ্যের ওপর মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। পড়ার টেবিলে তার প্রিয় কিছু
শিক্ষামূলক ছবি বা পৃথিবীর মানচিত্র রাখতে পারেন যা তাকে পড়ার প্রতি উৎসাহিত
করবে। পরিবেশ যদি পড়ার উপযোগী হয়, তবে শিশু সেখানে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ
করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানে প্রতিদিন পড়তে বসলে মস্তিষ্কে একটি
সংকেত যায়, যা একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পড়ার জায়গা পরিবর্তন না
করে একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে দিন। ঘরের কোণায় কিছু সবুজ গাছ রাখতে পারেন যা
ঘরকে সজীব রাখে এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখে। সুন্দর ও মার্জিত
পরিবেশ পড়ার ক্লান্তি দূর করে এবং দীর্ঘক্ষণ মনোযোগী থাকতে সহায়তা করে যা একজন
শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
পড়ার ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন, কারণ কম আলোতে পড়লে চোখের ওপর চাপ
পড়ে এবং শিশু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। টেবিল ও চেয়ার যেন শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী
আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একটি পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত পড়ার ঘর শিশুর
সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা তৈরি করতে জাদুর মতো কাজ করে।
| সাধারণ সমস্যা 🧐 | শিশুদের মনের কথা 🧒 | জাদুকরী ও সহজ সমাধান ✨ | উপমা বা উদাহরণ 💡 |
|---|---|---|---|
| পড়ার প্রতি একঘেয়েমি | "একই পড়া আর ভালো লাগছে না!" | পড়ার বিষয় বদলে দিন বা ছবি এঁকে শেখান। | নীল রঙের পর যেমন লাল রঙ ভালো লাগে, বিষয়ের বদলও তেমন |
| মোবাইলের নেশা | "গেম না খেললে মন বসছে না।" | পর্দার সময় কমিয়ে বিকেলে মাঠে খেলতে দিন। | গাছ যেমন রোদে বড় হয়, শিশুও তেমন খেলার মাঠে বাড়ে। |
| পড়া মনে না থাকা | "পড়ি কিন্তু সব ভুলে যাই!" | ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম এবং বাদাম ও দুধ জাতীয় খাবার। | মেমোরি কার্ড যেমন খালি লাগে, মস্তিষ্কেরও তেমন বিশ্রামের প্রয়োজন। |
| পড়াশোনার ভয় | ইশ কত বড়বই পারব নাতো | সিলেবাসকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পুরস্কার দিন। | পাহাড় যেমন এক লাফে চড়া যায় না, ছোট ছোট ধাপে শিখতে হয়। |
| বসে থাকার অস্থিরতা | এক জায়গায় বসে থাকতে কষ্ট হয় | প্রতি ৪০ মিনিট পর ১০ মিনিটের মজার বিরতি দিন। | ব্যাটারি যেমন চার্জ দিতে হয়, বিরতিও তেমন বুদ্ধির রিচার্জ। |
| কঠিন অংক বা বিজ্ঞান | "এটা তো পাহাড়ের মতো কঠিন!" | বাস্তব উদাহরণ বা গল্পের মতো করে বুঝিয়ে দিন। | তেতো ঔষধ যেমন মধুর সাথে খাওয়া যায়, কঠিন পড়া গল্পের সাথে। |
নির্দিষ্ট রুটিন এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় রুটিন ছাড়া কোনো কাজই সফলভাবে করা সম্ভব
নয়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসার অভ্যাস
গড়ে তুলুন। রুটিনটি এমনভাবে তৈরি করুন যাতে পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিশ্রাম এবং
শখের কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে। একটানা দীর্ঘক্ষণ পড়লে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে
যায়, তাই প্রতি ৪০-৫০ মিনিট পড়ার পর ১০ মিনিটের বিরতি দিন। বিরতির সময় তাকে হালকা
কিছু খেতে দিন বা তার সাথে গল্প করুন।
রুটিন করার সময় সন্তানের মতামত নিন, এতে সে অনুভব করবে যে তার ইচ্ছার গুরুত্ব
আছে। যখন সে নিজের তৈরি রুটিন মেনে চলবে, তখন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।
সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা শিখলে সে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করবে না।
রুটিনে সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি এমন সময়ে রাখুন যখন তার মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সজাগ
থাকে, সাধারণত সকালের সময়টি কঠিন বিষয় পড়ার জন্য সেরা।
মনে রাখবেন, রুটিন মানে কেবল পড়ার চাপ নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল জীবন গড়ার
পদ্ধতি। রুটিন মেনে চললে শিশুর মধ্যে সময়ানুবর্তিতা গড়ে ওঠে যা তাকে ভবিষ্যতে
একজন সফল মানুষ হতে সাহায্য করবে। রুটিনটি পড়ার ঘরের এমন জায়গায় টাঙিয়ে রাখুন
যেখানে সে সবসময় দেখতে পায়। যদি কোনোদিন রুটিন ভঙ্গ হয়, তবে বকাঝকা না করে পরদিন
সেটি পূরণের জন্য উৎসাহিত করুন। শৃঙ্খলাই শিশুকে পড়াশোনায় মনোযোগী করার অন্যতম
সেরা উপায়।
রুটিনে যেন প্রতিদিন একই বিষয় না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিষয় পরিবর্তন করে
পড়লে শিশুর একঘেয়েমি দূর হয়। এছাড়া পড়াশোনা শেষ করার পর তাকে কিছু সময় নিজের মতো
থাকতে দিন। সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহার একটি শিশুকে সাধারণ থেকে
অসাধারণ করে তুলতে পারে, আর এর ভিত্তি গড়ে ওঠে ছোটবেলা থেকেই।
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার দূর করার কৌশল
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের এই যুগে
শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত মোবাইল গেম বা কার্টুন
দেখার ফলে শিশুর মস্তিষ্কের একাগ্রতা কমে যায়, যার ফলে সাধারণ পড়াশোনা তার কাছে
একঘেয়ে মনে হয়। তাই পড়ার সময় থেকে অন্তত এক ঘণ্টা আগে এবং পড়ার সময় মোবাইল বা
ট্যাব পুরোপুরি দূরে রাখুন। প্রযুক্তিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে এর ব্যবহারের
একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন।
ইন্টারনেটকে পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করতে শেখান। যেমনঃ- কোনো কঠিন অংক বা
বিজ্ঞানের বিষয় বুঝতে শিক্ষামূলক ভিডিওর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে এটি যেন
বিনোদনের মাধ্যম না হয়ে ওঠে সেদিকে নজর রাখুন। আপনি নিজেও সন্তানের সামনে
সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করবেন না, কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে। মা-বাবা যদি বই
পড়ার অভ্যাস করেন, তবে সন্তানও বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে প্রাকৃতিকভাবে।
ডিজিটাল আসক্তি কাটানোর জন্য তাকে আউটডোর গেমস বা মাঠের খেলায় উৎসাহিত করুন।
বিকেলে বন্ধুদের সাথে খেললে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, যা পড়ার
টেবিলে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে এটি
শিক্ষার হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু এর অপব্যবহার শিশুকে পড়াশোনা থেকে অনেক দূরে
সরিয়ে দেয়। তাই ছোটবেলা থেকেই তাকে পর্দার সময়ের কুফল সম্পর্কে সাবলীল ভাষায়
বুঝিয়ে বলুন।
পর্দার সময়ের বদলে তাকে গল্প বলা, ছবি আঁকা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র শিখতে উৎসাহিত
করতে পারেন। এতে তার সৃজনশীল প্রতিভা বিকশিত হবে। মনে রাখবেন, ডিজিটাল ডিভাইস
ব্যবহারের নেশা একবার ঢুকে গেলে তা থেকে বের করে আনা কঠিন, তাই শুরু থেকেই কঠোর
না হয়ে কৌশলী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা জরুরি।
ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ মানুষ সাধারণত প্রাপ্তির আশায় কাজ করতে পছন্দ
করে, আর শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি কার্যকর। সন্তানকে বড় বড় সিলেবাসের ভয় না
দেখিয়ে প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য দিন। যেমন “আজ যদি তুমি এই অধ্যায়টি শেষ করতে
পারো, তবে বিকেলে তোমার প্রিয় খাবার রান্না কর”। এই ধরণের ছোট পুরস্কার বা
প্রশংসা শিশুর মনে কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। পুরস্কার মানেই দামী কিছু নয়,
একটি চকলেট বা পার্কে ঘুরতে নিয়ে যাওয়াও বড় পুরস্কার হতে পারে।
যখন শিশু কোনো কঠিন কাজ সফলভাবে শেষ করবে, তাকে দুহাত ভরে বাহবাহ দিন। আপনার
প্রশংসা তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সে যদি বুঝতে পারে যে ভালো পড়াশোনা
করলে মা-বাবা খুশি হন এবং সে পুরস্কৃত হয়, তবে সে নিজে থেকেই পড়তে বসবে। তবে
খেয়াল রাখবেন পুরস্কার যেন ঘুষে পরিণত না হয়। তাকে বোঝান যে পড়াশোনা তার নিজের
ভালোর জন্য, আর পুরস্কারটি কেবল তার পরিশ্রমের স্বীকৃতি। লক্ষ্য নির্ধারণের
ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হোন। তার মেধার অতিরিক্ত কোনো চাপ দেবেন না যা তাকে হতাশ করে
তুলতে পারে।
আরো পড়ুনঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
প্রতিদিনের ছোট ছোট জয় তাকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে। তার ছোট ছোট অর্জনগুলোকে
ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন যা বছরের শেষে তাকে গর্বিত করবে। এই ইতিবাচক উৎসাহ
প্রদানের পদ্ধতিটি আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞানে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত
হয়েছে।পুরস্কারের পাশাপাশি তাকে ছোট ছোট দায়িত্ব দিন। যেমন কোনো নতুন কিছু পড়ার
পর তাকেই শিক্ষক সাজিয়ে আপনাকে পড়াতে বলুন। এতে সে আনন্দ পাবে এবং বিষয়টি তার মনে
গেঁথে যাবে। তার প্রচেষ্টাকে মূল্য দিলে সে নতুন কিছু শিখতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে
উঠবে যা পড়াশোনার ভীতি দূর করবে।
পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী করে তুলুন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় বইয়ের নিরস লেখা পড়ার চেয়ে বাস্তব
উদাহরণের মাধ্যমে শিখলে শিশুরা বেশি মনে রাখতে পারে। যেমনঃ- বিজ্ঞানের কোনো বিষয়
শেখানোর সময় ঘরে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে পরীক্ষা করে দেখান। ইতিহাসের গল্পগুলো
গল্পের মতো করে বলুন যাতে সে চোখের সামনে সেই দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে পারে।
পড়াশোনাকে যখন সে বোঝা না ভেবে আনন্দ হিসেবে নেবে, তখন সে নিজে থেকেই আগ্রহী হবে।
শিক্ষামূলক বিভিন্ন গেম বা ধাঁধার মাধ্যমেও তাকে অনেক কিছু শেখানো যায়।
ভূগোল শেখানোর জন্য একটি গ্লোব বা বড় মানচিত্র ব্যবহার করুন এবং তাকে বিভিন্ন দেশ
খুঁজে বের করতে দিন। অংক শেখানোর সময় বাজারের হিসাব বা ছোট ছোট কেনাকাটার উদাহরণ
দিন। এতে সে বুঝতে পারবে যে পড়াশোনা কেবল পরীক্ষার জন্য নয়, এটি তার বাস্তব
জীবনের জন্য প্রয়োজন। ছবি এঁকে বা ছড়া কেটে পড়া মুখস্থ করানো একটি চমৎকার কৌশল যা
পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিখলে পড়া কখনোই একঘেয়ে মনে হয় না।
সন্তানকে পাঠাগারে বা যাদুঘরে নিয়ে যান যাতে সে বইয়ের বাইরের জগত সম্পর্কে জানতে
পারে। প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও অনেক কিছু শেখা সম্ভব। পড়াশোনাকে চার
দেয়ালের মাঝে আটকে না রেখে বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। যখন সে শিখতে শুরু করবে
যে জানার জগতটি কত বিশাল, তখন তার মধ্যে জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণা তৈরি হবে।
আনন্দদায়ক শিক্ষা পদ্ধতিই শিশুর মেধা বিকাশের শ্রেষ্ঠ পথ।
পাঠ্যবইয়ের বাইরেও তাকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক গল্পের বই পড়তে দিন। এতে তার
শব্দভাণ্ডার বাড়বে এবং পড়ার প্রতি অন্যরকম এক আকর্ষণ তৈরি হবে। শিক্ষা যখন
খেলাধুলার মতো উপভোগ্য হয়ে ওঠে, তখন কোনো শিশুকে পড়ার টেবিলে বসার জন্য জোরাজুরি
করতে হয় না।
সন্তানের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ কমান
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় অনেক সময় বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রত্যাশা
শিশুর মনে প্রচণ্ড ভীতি ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। প্রতিটি শিশু আলাদা এবং সবার
মেধা এক রকম হয় না। আপনার সন্তানকে অন্যের সন্তানের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন।
তুলনা করলে শিশুর আত্মমর্যাদা নষ্ট হয় এবং সে পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাকে
বোঝান যে সে যেমন, আপনি তাকে তেমনই ভালোবাসেন এবং তার পরিশ্রমই আপনার কাছে আসল।
ফলাফলের চেয়ে প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিন। সে যদি কোনো পরীক্ষায় খারাপও করে, তবে
বকা না দিয়ে তার ভুলগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন। পরীক্ষায় ভালো নম্বর
পাওয়াই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয় এই মানসিকতা তাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখবে।
ভয়মুক্ত মন অনেক বেশি সৃজনশীল এবং মনোযোগী হতে পারে। আপনার সমর্থনই তার সবচাইতে
বড় শক্তি যা তাকে কঠিন বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করবে।
অতিরিক্ত শাসনের বদলে তাকে ভালোবেসে শৃঙ্খলায় আনুন। ভয় দেখিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে
তাকে পড়তে বসানো যায়, কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদে পড়ার প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়। আপনার
লক্ষ্য হওয়া উচিত তার মধ্যে শেখার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পরীক্ষার জিপিএ
বাড়ানো নয়। চাপমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরাই ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী মেধার পরিচয়
দেয়। আপনার ধৈর্য এবং নমনীয় আচরণই তার পড়ার টেবিলের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা।
সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ দিন। এটি তার মধ্যে
স্বনির্ভরতা বাড়াবে। পরীক্ষায় গ্রেডের চেয়ে সে কী শিখল তা নিয়ে আলাপ করুন।
অভিভাবকের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহমর্মী আচরণই শিশুর পড়াশোনার সবচাইতে বড় চালিকাশক্তি।
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় সংক্ষেপে সমাধান
সন্তানের পড়াশোনায় অনীহা বর্তমান সময়ের অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তা।
বকাঝকা বা শাসন না করে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে সহজেই তাদের পড়ার টেবিলে ফেরানো
সম্ভব। নিচে ৮টি কার্যকরী উপায় সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ-
- মনোযোগ না দেওয়ার কারণ খুঁজুনঃ- সন্তান কেন পড়তে চাইছে না, তা আগে বোঝার চেষ্টা করুন। হতে পারে সে কোনো বিষয় বুঝতে পারছে না অথবা তার শারীরিক কোনো সমস্যা (যেমন- চোখের সমস্যা বা ক্লান্তি) হচ্ছে। কারণ জানলে সমাধান সহজ হয়।
- পড়ার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করুনঃ- পড়ার জায়গাটি যেন শান্ত, পরিচ্ছন্ন এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ হয়। টেবিল থেকে খেলনা বা মনযোগ নষ্ট করে এমন বস্তু সরিয়ে ফেলুন। সুন্দর পরিবেশ একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- রুটিন ও সময় ব্যবস্থাপনাঃ- প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসার অভ্যাস করান। টানা দীর্ঘক্ষণ না পড়িয়ে প্রতি ৪০-৫০ মিনিট পর ১০ মিনিটের বিরতি দিন। বিরতিতে তাকে হালকা নাস্তা বা কথা বলার সুযোগ দিন।
- ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণঃ- পড়ার সময় মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টেলিভিশন থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন। প্রযুক্তির নেশা শিশুর মনোযোগের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই পড়াশোনার সময়টি হোক সম্পূর্ণ ‘স্ক্রিন ফ্রি’।
- ছোট লক্ষ্য ও প্রশংসাঃ- বিশাল সিলেবাসের ভয় না দেখিয়ে প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য দিন। পড়া শেষ করলে তাকে মন খুলে প্রশংসা করুন বা ছোট কোনো পুরস্কার দিন। আপনার উৎসাহ তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
- পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করাঃ- শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে ছবি এঁকে, গল্প বলে বা বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো বোঝান। পড়া যখন মজার হবে, শিশু তখন নিজে থেকেই শিখতে আগ্রহী হবে।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যঃ- মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতার জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে ফলমূল ও বাদাম জাতীয় খাবার দিন। শরীর সুস্থ থাকলে পড়াশোনায় মন বসানো সহজ হয়।
- বন্ধুসুলভ আচরণঃ- সন্তানের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ দেবেন না। অন্য শিশুর সাথে তুলনা না করে তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। ভয়মুক্ত মনে শিশুরা অনেক বেশি সৃজনশীল এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হয়।
সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব নিশ্চিত করা
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় শারীরিক সুস্থতা ছাড়া পড়াশোনায় মনোযোগ
দেওয়া অসম্ভব। শিশুর খাদ্য তালিকায় যেন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন এবং ওমেগা-৩
থাকে সেদিকে নজর রাখুন। বাদাম, ডিম, মাছ এবং সবুজ শাকসবজি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা
বাড়াতে সাহায্য করে। জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার শিশুর মস্তিষ্ককে
অলস করে দেয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন। শরীর সুস্থ থাকলে মনও সতেজ থাকে যা পড়াশোনায়
গভীর মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।
ঘুমের অভাব মনোযোগ নষ্টের একটি প্রধান কারণ। একজন শিশুর প্রতিদিন অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা
নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। রাত জেগে পড়ার অভ্যাসের চেয়ে ভোরে ওঠার অভ্যাস অনেক
বেশি কার্যকর। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্যগুলো গুছিয়ে রাখে, তাই পর্যাপ্ত
ঘুম না হলে পড়া মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন এবং
ঘুমের আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে তাকে দূরে রাখুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন কারণ পানিশূন্যতা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা
কমিয়ে দেয়। বিকেলে অন্তত এক ঘণ্টা রোদে খেলতে দিন যা তার শরীরে ভিটামিন ডি সরবরাহ
করবে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখবে। সুস্থ শরীর ও সতেজ মন একসাথে কাজ করলে পড়াশোনা
অনেক সহজ মনে হয়। শারীরিক যত্ন শিশুর মেধা বিকাশের একটি অপরিহার্য অংশ যা অনেক
অভিভাবকই অবহেলা করেন।
সকালের নাস্তাটি যেন অবশ্যই পুষ্টিকর হয় তা নিশ্চিত করুন। খালি পেটে কোনো শিশুই
পড়াশোনায় মন দিতে পারে না। শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রাখলে
তার সামগ্রিক উন্নতি ত্বরান্বিত হয় এবং পড়াশোনার ফলাফলও ভালো হয়।
সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহমর্মী আচরণ করুন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ উপায় কঠোর শাসনের চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
পড়াশোনায় বেশি কাজ দেয়। সন্তান যখন পড়তে চায় না, তখন তার ওপর চিৎকার না করে
শান্তভাবে কথা বলুন। তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না বা সে কোনো বিষয়ে ভয় পাচ্ছে কি
না তা জানার চেষ্টা করা। আপনি যদি তার বন্ধু হতে পারেন, তবে সে তার সব সমস্যা
আপনার সাথে শেয়ার করবে। শাসন করুন কিন্তু তার আগে তার আস্থা অর্জন করুন।
মাঝে মাঝে সন্তানের সাথে একসাথে পড়তে বসুন। সে যখন দেখবে মা-বাবাও তার সাথে পড়ছেন
বা কিছু শিখছেন, তখন সে উৎসাহ পাবে। তার পড়ার সাথী হোন, শিক্ষক নয়। তার ছোট ছোট
ভুলগুলোকে হাসিমুখে সংশোধন করে দিন। পড়াশোনা নিয়ে ঘরের পরিবেশ যেন সবসময় গম্ভীর
না থাকে, হাসিখুশি পরিবেশ মেধা বিকাশে সহায়ক। আপনার সঙ্গ তার জন্য সবচাইতে বড়
প্রাপ্তি যা তাকে পড়ার টেবিলে স্থির করবে।
যদি দেখেন দীর্ঘ চেষ্টার পরেও সে মনোযোগ দিতে পারছে না, তবে কোনো অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না। অনেক সময় আমরা যা সাধারণ মনে করি, তার পেছনে কোনো গভীর কারণ থাকতে পারে। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়া বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি। ভালোবাসা এবং বিজ্ঞানের সঠিক মিশ্রণই পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে।
শিশুর আবেগের মূল্যায়ন করুন। তাকে ছোট ছোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিন।
এতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে এবং তার পড়ার দায়িত্ব সে নিজেই গ্রহণ করতে
শিখবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন পড়াশোনায় মন বসানোর কার্যকরী সমাধান
- প্রশ্নঃ- কত বছর বয়স থেকে শিশুকে রুটিন মেনে পড়তে বসানো উচিত?
- উত্তরঃ-সাধারণত ৫-৬ বছর বয়স থেকে শিশুদের ছোট ছোট রুটিনে অভ্যস্ত করা উচিত, তবে তা যেন অতিরিক্ত কঠোর না হয়।
- প্রশ্নঃ- পড়াশোনার মাঝে বিরতি দেওয়া কি ঠিক?
- উত্তরঃ- হ্যাঁ, দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনার চেয়ে বিরতি দিয়ে পড়া অনেক বেশি কার্যকর। এটি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং মনোযোগ বাড়ায়।
- প্রশ্নঃ- সন্তান যদি পড়ার সময় ঘুমিয়ে পড়ে তবে কি করব?
- উত্তরঃ-এটি হতে পারে তার ঘুমের অভাব বা একঘেয়েমি। তাকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে দিন বা রুটিন পরিবর্তন করে সহজ কোনো বিষয় পড়তে দিন।
- প্রশ্নঃ- সব শিশু কি পড়াশোনায় সমান মেধাবী হয়?
- উত্তরঃ- প্রতিটি শিশুর মেধা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে থাকে। কেউ পড়াশোনায় ভালো হয়, কেউ খেলাধুলায় বা শিল্পকলায়। সঠিক প্রতিভা খুঁজে বের করাই মা-বাবার কাজ।
শেষ কথাঃ পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন
পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় মেনে চললে আপনি অবশ্যই ইতিবাচক
পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ধৈর্যের সাথে আপনার সন্তানের পাশে থাকুন এবং তাকে সঠিক পথ
দেখান। মনে রাখবেন, একটি শিশুর সাফল্য কেবল তার কঠোর পরিশ্রমের ওপর নয়, বরং আপনার
সঠিক নির্দেশনা ও ভালোবাসার ওপরও নির্ভর করে। আধুনিক অভিভাবকত্বে শাসন নয়, বরং
বিজ্ঞানসম্মত ও সহমর্মী আচরণই সেরা হাতিয়ার।
যদি দেখেন দীর্ঘ চেষ্টার পরেও সে মনোযোগ দিতে পারছে না, তবে কোনো অভিজ্ঞ
শিক্ষাবিদ বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না। অতিরিক্ত শাসন
করা, বা বকাবকি করা, মনে রাখবেন আপনার কঠোর শাসন হয়তো বাঁকা পাথে নিয়ে যাবে। এই
জন্য তো অনেক সন্তানকে দেখা যায়। বড় হয়ে গেলে মা বাবার সাথে, খারাপ ব্যবহার করে।
খারাপ শিশুদের সাথে মিশার চেয়ে আপনি নিজেই তার বন্ধু এবং খেলার সাথী হয়ে জান।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সন্তানদের পরিপূর্ণ অধিকার আদায় করা।



সকল বিশ্ব এর নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url