প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় মাসনুন দোয়া ও জিকির

ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য দোয়া শিখিয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, ঘরে ঢোকা, বাইরে যাওয়া, বাথরুমে যাওয়া সব কিছুর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া পড়তেন।

প্রতিদিনের-প্রয়োজনীয় -মাসনুন-দোয়া-ও-জিকির

এসব দোয়া পড়লে সাধারণ কাজও ইবাদতে পরিণত হয়। নিচে জীবন চলার গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো সহিহ হাদিসের রেফারেন্সসহ দেওয়া হলো। বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় মাসনুন দোয়া ও জিকির

দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর সাহায্য ও বরকত লাভের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দিষ্ট কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া অর্থ, ফজিলত ও রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হলোঃ

ঘুম থেকে ওঠার দোয়া

আরবিঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবিত করলেন। আর তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

ফজিলতঃ দিনের শুরুতেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয় এবং ঈমানের নবায়ন ঘটে।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩২৪)


টয়লেটে প্রবেশের দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় চাইছি।

ফজিলতঃ এটি শয়তানের অনিষ্ট থেকে হিফাজতের ঢাল হিসেবে কাজ করে।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৪২)


ওজুর শুরুতে দোয়া

আরবিঃ بِسْمِ اللهِ

অর্থঃ আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

ফজিলতঃ আল্লাহর নাম ছাড়া ওজু অপূর্ণ থেকে যায়।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১০১)


ওজু শেষে দোয়া

আরবিঃ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

ফজিলতঃ এই দোয়া পাঠকারীর জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হয়।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৪)


বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া

আরবিঃ بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

অর্থঃ আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তিও নেই।

ফজিলতঃ ফেরেশতারা বলেন, "তোমার জন্য এটি যথেষ্ট এবং তুমি রক্ষা পেয়েছ।" শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫০৯৫)


মসজিদে প্রবেশের দোয়া

আরবি: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।

ফজিলতঃ আল্লাহর ঘরে মেহমান হিসেবে রহমত লাভের দোয়া।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৩)


আরো পড়ুনঃ মানসিক চাপ কমানোর ১৭ টি উপায় কী কী? জেনে নিন

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া

আরবিঃ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।

ফজিলতঃ এটি কুরআনের সবচেয়ে ব্যাপক দোয়া যাতে ইহকাল ও পরকাল সব চাওয়া হয়েছে।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২০১)


গুনাহ মাপের শ্রেষ্ঠ দোয়া (সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার)

আরবিঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।

ফজিলতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ  ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩০৬)


বিপদের সময় পাঠ করার দোয়া

আরবিঃ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থঃ আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।

ফজিলতঃ ইউনুস (আ.) এই দোয়া পড়ে মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে এটি পড়লে আল্লাহ তা কবুল করেন।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৭; তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫০৫)


রোগ মুক্তির দোয়া

আরবিঃ أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ

অর্থঃ হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন। আর শেফা দান করুন, আপনিই শেফা দানকারী। আপনার শেফা ছাড়া কোনো শেফা নেই।

ফজিলতঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তির গায়ে হাত বুলিয়ে এই দোয়া পড়তেন।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৪৩)


টয়লেটে প্রবেশের দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় চাইছি।

ফজিলতঃ নোংরা জায়গায় অবস্থানকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত থাকা যায়।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৪২)


টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া

আরবিঃ غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِّيْ الْاَذَى وَعَافَانِيْ

ফজিলত

অর্থঃ (হে আল্লাহ!) আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য; যিনি ক্ষতি ও কষ্টকর জিনিস থেকে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন।’

ফজিলতঃ সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, টয়লেটে প্রবেশের আগে এবং টয়লেট থেকে বের হওয়ার পরে হাদিসে উল্লেখিত দোয়ার মাধ্যমে দুষ্ট পুরুষ ও নারী জিনের বদ-নজর থেকে হেফাজত থাকা। টয়লেটের পর কষ্টদায়ক অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও শুকরিয়া আদায় করা।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩০)

ওজুর শুরুতে দোয়া

আরবিঃ بِسْمِ اللَّهِ

অর্থঃ আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

ফজিলতঃ ওজুর বরকত বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নাম ছাড়া ওজু পূর্ণ হয় না।

(রেফারেন্সঃ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৯৭)


ওজু শেষে দোয়া

আরবিঃ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

ফজিলতঃ যে ব্যক্তি ওজু শেষে এটি পড়বে, তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হবে।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৪)


ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া

আরবিঃ بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

অর্থঃ আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

ফজিলতঃ এটি পড়লে ফেরেশতারা বলেন, "তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তুমি শয়তান থেকে রক্ষা পেলে।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫০৯৫)


প্রতিদিনের-প্রয়োজনীয় -মাসনুন-দোয়া-ও-জিকির

ঘরে প্রবেশের দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম প্রবেশ ও উত্তম প্রস্থান প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামেই আমরা প্রবেশ করি এবং আল্লাহর নামেই বের হই।

ফজিলতঃ ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম নিলে শয়তান ওই ঘরে রাত কাটাতে পারে না।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫০৯৬)


আরো পড়ুনঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধা ও অসুবিধা জেনে নিন

মসজিদে প্রবেশের দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।

ফজিলতঃ আল্লাহর ঘরে প্রবেশের সময় তাঁর খাস রহমত প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৩)


মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ বা বরকত প্রার্থনা করছি।

ফজিলতঃ মসজিদ থেকে বের হয়ে দুনিয়াবি কাজে আল্লাহর বরকত পাওয়ার দোয়া।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৩)


আজানের জবাব দেওয়ার দোয়া (আজান শেষে)

আরবি اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ 

অর্থঃ আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দু’আ করেঃ ‘হে আল্লাহ্‌-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পোঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন’–ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।

ফজিলত: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

(রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬১৪)


পোশাক পরার দোয়া

আরবিঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا (الثَّوْبَ) وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ

অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই কাপড়টি পরিয়েছেন এবং আমার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়াই এটি আমাকে দান করেছেন।

ফজিলতঃ যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে, তার পূর্বের (সগীরা) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০২৩; তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৫৮)


নতুন পোশাক পরার দোয়া

আরবি: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ، أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনার। আপনিই আমাকে এটি পরিয়েছেন। আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ ও যে উদ্দেশ্যে এটি তৈরি হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর এর অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

ফজিলতঃ নতুন নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হয় এবং অমঙ্গল থেকে বাঁচা যায়।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০২০; তিরমিজি, হাদিস নং ১৭৬৭)


আয়না দেখার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ حَسَّنْتَ خَلْقِي فَحَسِّنْ خُلُقِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার চেহারা বা গঠন সুন্দর করেছেন, সুতরাং আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন।

ফজিলতঃ বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ (চরিত্রের) সৌন্দর্যের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর দোয়া। (রেফারেন্সঃ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৫২২৫; সহিহ ইবনে হিব্বান)


খাওয়ার শুরুর দোয়া

আরবিঃ بِسْمِ اللَّهِ

অর্থঃ আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

ফজিলতঃ খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নিলে শয়তান ওই খাবারে অংশ নিতে পারে না এবং খাবারে বরকত হয়। (রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০১৭; আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৭৬৭)


শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে

আরবিঃ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ 

অর্থঃ এর শুরু এবং শেষেও আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

ফজিলতঃ মাঝপথে এটি পড়লে শয়তান যেটুকু খাবার খেয়েছিল তা বমি করে দেয় (অর্থাৎ খাবারের বরকত ফিরে আসে)। (রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৭৬৭; তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৫৮)


খাওয়ার শেষের দোয়া

আরবিঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ

অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন।

ফজিলতঃ রিজিকের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে নেয়ামত আরও বৃদ্ধি পায়।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫০; তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৫৭)


দুধ পান করার পর দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি এতে আমাদের বরকত দিন এবং এটি আমাদের জন্য আরও বাড়িয়ে দিন।

ফজিলতঃ রাসুল (সা.) বলেছেন, দুধ ছাড়া এমন কোনো খাদ্য নেই যা খাবার ও পানীয় উভয়ের কাজ করে।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৭৩০; তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৫৫)


কেউ খাবার খাওয়ালে তার জন্য দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِي، وَأَسْقِ مَنْ أَسْقَانِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! যে আমাকে খাইয়েছে আপনি তাকে খাওয়ান, আর যে আমাকে পান করিয়েছে আপনি তাকে পান করান।

ফজিলতঃ মেজবানের (যে খাওয়ায়) জন্য বরকত ও রিজিকের দোয়া। (রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০৫৫)


ইফতারের দোয়া

আরবিঃ ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

অর্থঃ পিপাসা মিটেছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ নেকি বা প্রতিদান নির্ধারিত হয়েছে।

ফজিলতঃ রোজার কষ্ট শেষে আল্লাহর শুকরিয়া ও সওয়াবের নিশ্চয়তা লাভ।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৭)


কোনো কাজ শুরু করার সময় দোয়া

আরবিঃ رَبِّ يَسِّرْ وَلَا تُعَسِّرْ وَتَمِّمْ بِالْخَيْرِ

অর্থঃ হে আমার রব! আমার কাজটি সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না এবং কল্যাণের সাথে এটি পূর্ণ করে দিন।

ফজিলতঃ যে কোনো কঠিন কাজ সহজ হওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য লাভের মোক্ষম দোয়া।

(রেফারেন্সঃ প্রথাগতভাবে মাসনুন দোয়া হিসেবে পঠিত (সুত্র: বিভিন্ন দোয়া সংকলন)


মজলিস বা আড্ডা শেষে ওঠার দোয়া

আরবিঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি এবং আপনার দিকেই ফিরে আসছি।

ফজিলতঃ মজলিসে বা কথাবার্তায় কোনো ভুল বা অনর্থক কথা হয়ে থাকলে এই দোয়া পড়লে তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (রেফারেন্সঃ সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৩৩; আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৫৯)।


রাগ দমনের দোয়া

আরবিঃ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

অর্থঃ আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি।

ফজিলতঃ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, এই দোয়া পড়লে শয়তান দূরে সরে যায় এবং রাগ প্রশমিত হয়।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩২৮২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬১০)।


যানবাহনে ওঠার দোয়া

আরবিঃ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ

অর্থঃ পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাব।

ফজিলতঃ ভ্রমণের নিরাপত্তা এবং আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।

(রেফারেন্সঃ সূরা আজ-জুখরুখ, আয়াত ১৩-১৪; তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৪৬)।


ভ্রমণের সময় দোয়া (সফর শুরু করলে)

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আপনার কাছে পুণ্য ও তাকওয়া চাই এবং এমন কাজ চাই যা আপনি পছন্দ করেন।

ফজিলতঃ সফর বরকতময় হয় এবং সব ধরনের বিপদ থেকে আল্লাহ রক্ষা করেন।

(রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৪২)।


কোনো বিপদে পড়লে দোয়া

আরবিঃ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

অর্থঃ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার এই বিপদে আমাকে সওয়াব দিন এবং এর চেয়ে উত্তম কিছু বিনিময় দিন।

ফজিলতঃ আল্লাহ বিপদে ধৈর্য ধরার তৌফিক দেন এবং হারানো জিনিসের চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।

রেফারেন্সঃ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৯১৮।


ঋণ মুক্তির দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রিজিক আমার জন্য যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।

ফজিলত পাহাড় সমান ঋণ থাকলেও আল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।

রেফারেন্সঃ সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৬৩।


চিন্তামুক্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে।

ফজিলতঃ মানসিক প্রশান্তি অর্জনে রাসুল (সা.) এই দোয়াটি নিয়মিত পড়তেন।

রেফারেন্সঃ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২৮৯৩)


বৃষ্টি দেখে পড়ার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের ওপর কল্যাণকর ও উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

ফজিলতঃ বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয় এবং এটি ক্ষতিকর বৃষ্টি থেকে বাঁচার উপায়।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১০৩২)


বজ্রপাত শুনলে পড়ার দোয়া

আরবিঃ سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

অর্থঃ পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর প্রশংসা বজ্র ও ফেরেশতারা তাঁর ভয়ে পাঠ করে।

ফজিলতঃ আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাহাবায়ে কেরাম এটি পড়তেন।

(রেফারেন্সঃ মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং ১৮০৫; আদাবুল মুফরাদ) (বুখারি হাদিস নং ৭২৩)


আয়ু ও রিজিকে বরকতের দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالِي، وَوَلَدِي، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَنِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং আপনি আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন।

ফজিলতঃ রাসুল (সা.) আনাস (রা.)-এর জন্য এই দোয়া করেছিলেন, যার ফলে তিনি দীর্ঘায়ু ও প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।

(রেফারেন্সঃ সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৮০)


কোনো নেয়ামত দেখলে পড়ার দোয়া (নজর লাগা থেকে বাঁচতে)

আরবিঃ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

অর্থঃ আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।

ফজিলতঃ নিজের বা অন্যের কোনো সুন্দর জিনিস দেখে এটি পড়লে তাতে নজর লাগে না।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-কাহফ, আয়াত ৩৯)


বিপদে বা দুশ্চিন্তায় পড়লে (ইসমে আজম সম্বলিত দোয়া)

আরবিঃ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ

অর্থঃ হে চিরঞ্জীব! হে মহাবিশ্বের ধারক! আমি আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

ফজিলতঃ রাসুল (সা.) কোনো কঠিন সমস্যায় পড়লে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন।

রেফারেন্সঃ সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫২৪; হাকেম, হাদিস নং ২০৩১।


শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার দোয়া

আরবিঃ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ

অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় চাইছি এবং আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকেও আশ্রয় চাইছি।

ফজিলতঃ এটি পাঠ করলে শয়তান মানুষের অন্তরে খারাপ চিন্তা ঢুকাতে পারে না।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৯৭-৯৮)


আরো পড়ুনঃ পড়াশোনায় শিশুর অনীহা দূর করার সহজ ৮ টি উপায় জেনে নিন

জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া

আরবিঃ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا

অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।

ফজিলতঃ ইলম বা সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য এটি কুরআনি দোয়া।

(রেফারেন্সঃ সূরা তোয়াহা, আয়াত ১১৪)


কোনো কাজ কঠিন মনে হলে সহজ হওয়ার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে কঠিনকেও সহজ করে দিতে পারেন।

ফজিলতঃ পরীক্ষা বা যে কোনো কঠিন কাজের শুরুতে এটি পড়লে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য পাওয়া যায়।

(রেফারেন্সঃ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৯৭৪; হিসনুল মুসলিম)

প্রতিদিনের-প্রয়োজনীয় -মাসনুন-দোয়া-ও-জিকির

আয়নার সামনে দাঁড়ালে বা চেহারা দেখলে দোয়া

আরবিঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ اللَّهُمَّ كَمَا أَحْسَنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي

অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর। হে আল্লাহ! আপনি যেমন আমার গঠন সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন।

ফজিলতঃ মানুষের বাহ্যিক রূপের চেয়ে অভ্যন্তরীণ চরিত্রের গুরুত্ব বেশি, এই দোয়া তা নিশ্চিত করে।

(রেফারেন্সঃ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৪৩৯২; সহিহ ইবনে হিব্বান)


শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

আরবিঃ اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের (শত্রুদের) মোকাবিলায় পেশ করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।

ফজিলতঃ রাসুল (সা.) কোনো জাতির পক্ষ থেকে বিপদের আশঙ্কা করলে এই দোয়াটি পড়তেন।

(রেফারেন্সঃ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৩৭; মুসনাদে আহমাদ)


ক্ষমা ও রহমত লাভের দোয়া

আরবিঃ رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি ক্ষমা করুন ও রহম করুন, আর আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

ফজিলতঃ এটি আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংক্ষিপ্ত কুরআনি দোয়া।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১১৮)


নিজের ও পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়া

আরবিঃ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা স্বরূপ বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।

ফজিলতঃ নেক সন্তান ও সুখী দাম্পত্য জীবন লাভের জন্য এটি শ্রেষ্ঠ দোয়া।

(রেফারেন্সঃ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭৪)




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সকল বিশ্ব এর নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abdul Ahad Hossain
Md. Abdul Ahad Hossain
আমি সকল বিশ্ব ব্লগের এডমিন এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।