রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। ২০২৬ সালের মাহে রমজানের ফজিলত এবং
জেলাভিক্তিক সাহরি ও ইফতারের সঠিক সময়সূচী দেখে নিন একনজরে। আপনার ইবাদত হোক আরও
পরিকল্পিত। রমজান ২০২৬ সাহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী, ক্যালেন্ডার এবং
রমজানের বিশেষ ফজিলত ও আমল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।
সঠিক সময়ে রোজা ও ইফতার সম্পন্ন করতে আমাদের সাথেই থাকুন। পরিপূর্ণ রমজানের ফজিলত
এবং সময়সূচী জানতে আমাদের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। বিস্তারিত জানতে
নিচে পড়ুন।
পেজ সূচীপত্রঃ রমজান মাসের ফজিলত, ক্যান্ডোর ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
- রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
- ঢাকার সময়ের সাথে বিভিন্ন জেলার সময়ের পার্থক্য
- ২০২৬ সালের কত তারিখ থেকে রমজান শুরু হবে
- সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী কেন গুরুত্বপূর্ণ
- রমজান মাস কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ
- লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য রাত সমূহ
- রমজান মাসে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো কী
- রমজান মাসে আমাদের বর্জনীয় বিষয়গুলো কী
- রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
- মুসাফিরের জন্য রোজা রাখার নিয়ম
- শেষ কথাঃ রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী যার মাধ্যমে আপনি
আমি রোজা রাখার সঠিক সময় জানতে পারবো। এই ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে আপনি সহজেই
প্রতিদিনের সাহরি ও ইফতার করার সময়সূচী দেখতে পারবেন, যার মাধ্যমে রোজা রাখার
ক্ষেত্রে আপনি নির্ভুল সময় অনুসরণ করতে পারবেন। ২০২৬ সালের সাহরীর শেষ সময়,
ইফতারের সময়, ও ফজরের আজানের সময় সূচী নিম্নে দেওয়া হলোঃ-
সাহরী - ইফতার ও ফজরের আজানের সময়সূচী
ঢাকা জেলা
পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
| রমজান | তারিখ | বার | সাহরির শেষ সময় | ফজরের আজান | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ০১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:১২ মিনিট | ৫:১৫ মিনিট | ৫:৫৮ মিনিট |
| ০২ | ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:১১ মিনিট | ৫:১৪ মিনিট | ৫:৫৮ মিনিট |
| ০৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:১১ মিনিট | ৫:১৪ মিনিট | ৫:৫৯ মিনিট |
| ০৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ৫:১০ মিনিট | ৫:১৩ মিনিট | ৫:৫৯ মিনিট |
| ০৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ৫:০৯ মিনিট | ৫:১২ মিনিট | ৬:০০ মিনিট |
| ০৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫:০৮ মিনিট | ৫:১১ মিনিট | ৬:০০ মিনিট |
| ০৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫:০৮ মিনিট | ৫:১১ মিনিট | ৬:০১ মিনিট |
| ০৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০৭ মিনিট | ৫:১০ মিনিট | ৬:০১ মিনিট |
| ০৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:০৬ মিনিট | ৫:০৯ মিনিট | ৬:০২ মিনিট |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:০৫ মিনিট | ৫:০৮ মিনিট | ৬:০২ মিনিট |
| ১১ | ০১ মার্চ | রবিবার | ৫:০৫ মিনিট | ৫:০৮ মিনিট | ৬:০৩ মিনিট |
| ১২ | ০২ মার্চ | সোমবার | ৫:০৪ মিনিট | ৫:০৭ মিনিট | ৬:০৩ মিনিট |
| ১৩ | ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫:০৩ মিনিট | ৫:০৬ মিনিট | ৬:০৪ মিনিট |
| ১৪ | ০৪ মার্চ | বুধবার | ৫:০২ মিনিট | ৫:০৫ মিনিট | ৬:০৪ মিনিট |
| ১৫ | ০৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৫:০১ মিনিট | ৫:০৪ মিনিট | ৬:০৫ মিনিট |
| ১৬ | ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ৫:০০ মিনিট | ৫:০৩ মিনিট | ৬:০৫ মিনিট |
| ১৭ | ০৭ মার্চ | শনিবার | ৪:৫৯ মিনিট | ৫:০২ মিনিট | ৬:০৬ মিনিট |
| ১৮ | ০৮ মার্চ | রবিবার | ৪:৫৮ মিনিট | ৫:০১ মিনিট | ৬:০৬ মিনিট |
| ১৯ | ০৯ মার্চ | সোমবার | ৪:৫৭ মিনিট | ৫:০০ মিনিট | ৬:০৭ মিনিট |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫৭ মিনিট | ৪:৫৯ মিনিট | ৬:০৭ মিনিট |
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ৪:৫৬ মিনিট | ৪:৫৮ মিনিট | ৬:০৮ মিনিট |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫৫ মিনিট | ৪:৫৭ মিনিট | ৬:০৮ মিনিট |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫৪ মিনিট | ৪:৫৭ মিনিট | ৬:০৯ মিনিট |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪:৫৩ মিনিট | ৪:৫৬ মিনিট | ৬:০৯ মিনিট |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪:৫২ মিনিট | ৪:৫৫ মিনিট | ৬:১০ মিনিট |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪:৫১ মিনিট | ৪:৫৪ মিনিট | ৬:১০ মিনিট |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫০ মিনিট | ৪:৫৩ মিনিট | ৬:১০ মিনিট |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪:৪৯ মিনিট | ৪:৫২ মিনিট | ৬:১১ মিনিট |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৪৮ মিনিট | ৪:৫১ মিনিট | ৬:১১ মিনিট |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৪৭ মিনিট | ৪:৫০ মিনিট | ৬:১১ মিনিট |
ঢাকার সময়ের সাথে বিভিন্ন জেলার সময়ের পার্থক্য
বাংলাদেশের সব জেলার অবস্থান এক জায়গায় নয়, তাই ঢাকার সময়ের সাথে অন্য জেলার
সাহরি ও ইফতারের সময় একটু এদিক - সেদিক হয়। সাধারণভাবে দেশের পূর্বাঞ্চলে সাহরি ও
ইফতার ঢাকার তুলনায় কিছু আগে হয়, আর পশ্চিমাঞ্চলে কিছুটা পরে হয়। এই সময়ের
পার্থক্য সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি না। ঠিকভাবে রোজা রাখার জন্য নিজের জেলার সময়
অনুযায়ী সাহরি ও ইফতার করতে হবে। নিচে প্রধান জেলাগুলোর সময়ের পার্থক্য দেওয়া
হলোঃ-
| জেলার নাম | সাহরি মিনিট | ইফতার মিনিট |
|---|---|---|
| চট্রগ্রাম | - ৫ মিনিট | - ৬ মিনিট |
| সিলেট | - ৭ মিনিট | - ৬ মিনিট |
| কুমিল্লা | - ৩ মিনিট | - ৪ মিনিট |
| রাজশাহী | + ৬ মিনিট | + ৭ মিনিট |
| খুলনা | + ৪ মিনিট | + ৩ মিনিট |
| রংপুর | + ৪ মিনিট | + ৫ মিনিট |
| বরিশাল | + ১ মিনিট | একই সময় ০ মিনিট |
| ময়মনসিংহ | একই সময় ০ মিনিট | একই সময় ০ মিনিট |
| বগুড়া | + ৩ মিনিট | + ৪ মিনিট |
| যশোর | + ৫ মিনিট | + ৫ মিনিট |
| দিনাজপুর | + ৭ মিনিট | + ৮ মিনিট |
এক, বিয়োগ চিহ্ন (-):
যদি আপনার জেলার নামের পাশে (-) চিহ্ন থাকে, তাহলে ঢাকার মূল সময় থেকে উল্লেখিত
মিনিট সংখ্যা কমাতে হবে।
উদাহরণঃ সিলেটে সাহরি হবে ঢাকার সময়ের ৭ মিনিট আগে।
দুই, যোগ চিহ্ন (+):
যদি আপনার জেলার নামের পাশে (+) চিহ্ন থাকে, তাহলে ঢাকার মূল সময়ের সাথে উল্লেখিত
মিনিট সংখ্যা বড়াতে হবে।
উদাহরণঃ রাজশাহী ইফতার ঢাকার ৬ মিনিট পরে করতে হবে।
২০২৬ সালের কত তারিখ থেকে রমজান শুরু হবে
বাংলাদেশে সম্ভাব্য তারিখ হলো বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাস আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী
২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার, অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার থেকে শুরু হতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা
রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান
শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বুধবার থেকে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর
বাংলাদেশের চাঁদ দেখা যায়।
মনে রাখা জরুরি হিজরি সনের মাসগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই ১৮
ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেলে ১৯ ফেব্রুয়ারি
থেকে রোজা শুরু হবে। চাঁদ দেখা না গেলে আরবি শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২০
ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে। সঠিক তারিখ জানতে ওই সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করুন।
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী কেন গুরুত্বপূর্ণ
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী একজন রোজাদারের জন্য পাচঁটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।
- এক নম্বর কারণ, ইবাদতের শুদ্ধতাঃ- ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাহরি শেষ করা এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা আবশ্যক। ভুল সময়ে এগুলো করলে রোজার বিশুদ্ধতা নষ্ট হতে পারে।
- দুই নম্বর কারণ, সুন্নাত পালনঃ- সাহরি খাওয়া এবং দেরি না করে দ্রুত ইফতার করা রাসুল (সাঃ) এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। সঠিক সময়সূচী অনুসরণ করলে এই সুন্নাহগুলো নিখুঁতভাবে পালন করা সহজ হয়।
- তিন নম্বর কারণ, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিঃ- নির্দিষ্ট সময় জানা থাকলে আগেভাগেই খাবারের প্রস্তুতি নেওয়া যায়,যা শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো বা দুশ্চিন্তা কমায়।
- চার নম্বর কারণ, ভৌগোলিক ভিন্নতাঃ এলাকাভেদে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় ভিন্ন হয়। যেমন- রাজশাহী ও ঢাকার ইফতারের সময়ের মধ্যে কয়েক মিনিটের পার্থক্য থাকে। তাই নিজের এলাকার সঠিক সময় জানা জরুরি।
- পাঁচ নম্বর কারণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখাঃ- পুরো মাসজুড়ে সঠিক সময়ে খাওয়া ও ইবাদত করার মাধ্যমে একজন মুমিনের জীবনে সময়ের শৃঙ্খলা বা সময়নুবর্তিতা তৈরি হয়।
রমজান মাস কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ
ইসলাম ধর্মাবালম্বীদের কাছে রমজান মাস অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার
প্রধান কারণগুলো হলঃ-
- পবিত্র কুরআন নাযিলঃ- এই মাসেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন মাজীদ নাযিল করেছেন।
- তাক্বওয়া অর্জনের মাসঃ- রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাক্বওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা যা মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখে এবং আত্মশুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে।
- লাইলাতুল কদরঃ- এই মাসেই রয়েছে মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
- অধিক সওয়াব অর্জন করা যায়ঃ- রমজান মাসে প্রতিটি নফল ইবাদতের সাওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াব ৭০ গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
- সহমর্মিতা ও দানশীলতাঃ- সারাদিন না খেয়ে থাকার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত ও অভাবি মানুষের কষ্ট অনুভব করা যায়, যা রোজাদারকে দানশীল হতে উৎসাহিত করে।
- রমজান মাসে গুনাহ মাফ হয়ঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রোজা রাখে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
- সহজ কথায়, এটি হলো মুমিনের জন্য আমল ও চরিত্রের উন্নতির এক বিশেষ প্রশিক্ষণকাল।
লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য রাত সমূহ
- হাজার মাসের চেয়ে উত্তমঃ পবিত্র কুরআনে সূরা আল কদরে বলা হয়েছে, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ( প্রায় ৮৩ বছর ৪মাস ) ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে।
- কোরআন নাজিলের রাতঃ এই রাতেই মহান আল্লাহ মানবজাতির পদ প্রদর্শক হিসেবে পবিত্র কোরআন ওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন।
- গুনাহ মাফের সুযোগঃ হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় এই রাতে এবাদত করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
- ভাগ্য নির্ধারণঃ এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং আগামী এক বছরের জন্য মানুষের তাকদীর বা ভাগ্য লিপি পুনর লিখন ও বন্টন করা হয়, তাই একে ভাগ্যের রজনীও বলা হয়।
- ফেরেশতাদের অবতরণঃ এই রাতে জিব্রাইল (আঃ) সহ অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং এবাদতকারীদের জন্য শান্তি ও রহমতের দোয়া করেন সারারাত পর্যন্ত। এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।
- লাইলাতুল ক্বদরের সম্ভাব্য রাতঃ লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর রমজানের শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭, বা ২৯ তারিখের কোনো এক রাতে হয়ে থাকে। বিশেষভাবে ২৭ তারিখটিকে সবচেয়ে সম্ভাব্য রাত হিসেবে মনে করা হয়। এই রাত মুসলিমদের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান মাসে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো কী
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময়। এই মাসে আমাদের
প্রধান করণীয় কাজগুলো নিচে দেয়া হলোঃ-
- সঠিক সময়ে রোজা পালনঃ সুবহে সাদেকের আগে সাহরি খাওয়া এবং সূর্যাস্তের পর দ্রুত ইফতার করা।
- কোরআন তেলাওয়াতঃ যেহেতু এই মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই প্রতিদিন অর্থসহ কোরআন পড়ার চেষ্টা করা।
- নামাজ ও তারাবিহঃ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবিহ এবং প্রতিদিন তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করা।
- দান সদকা ও যাকাতঃ রমজানে দানের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সামর্থ্য অনুযায়ী ও অভাবিদের সাহায্য করা এবং যাকাত ফরজ হলে তা আদায় করা।
- লাইলাতুল কদর তালাশঃ শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে শবে কদর তালাশ করা।
- তাওবা ও ইস্তেগফারঃ নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা করা এবং বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা গুনাহের জন্য।
আরো পড়ুনঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
রমজান মাসে আমাদের বর্জনীয় বিষয়গুলো কী
- মিথ্যা ও পরনিন্দাঃ রোজা রেখে মিথ্যা বলা, গীবত (পরনিন্দা) বা কারো চোকলখুরি করা থেকে বিরোধ থাকা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এসব বর্জন করে না, তার না খেয়ে থাকাতে আল্লাহ তাআলার কোন প্রয়োজন নেই।
- অসংযত আচরণঃ রাগ করা, ঝগড়া-বিবাদ বা গালিগালাজ থেকে দূরে থাকা।
- অপচয় না করাঃ ইফতার বা সাহরীতে অতিরিক্ত খাবার অপচয় করা থেকে বিরত থাকা।
- অশ্লীলতাঃ নাটক, সিনেমা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনর্থক ও অশ্লীল বিষয়ে দেখা পরিহার করা।
- সুযোগ বুঝে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করাঃ ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃত্রিম শংকট তৈরী বা দাম বানানো কবিরা গুনাহ।
রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
জ্যোতির্বিজ্ঞানিদের গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালো পবিত্র ঈদুল ফিতরের
সম্ভাব্য তারিখগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ-
- বাংলাদেশে বাংলাদেশে বম্ভাব্য তারিখঃ বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২১ মার্চ ২০২৬ শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভানা রয়েছে। তবে রমজান মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তবে ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার ঈদ পালিত হতে পারে।
- মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য তারিখঃ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার উদযাপিত হতে পারে।
- মনে রাখা জরুরিঃ ইসলামি বিধান অনুযায়ী হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই যদি ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকালে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তবে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদ হবে।
চাঁদ দেখা না গেলে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২১ মার্চ শনিবার ঈদ উদযাপিত হবে।
ঈদের সঠিক তারিখ জানতে ওই সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর চাঁদ দেখার
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করুন।
মুসাফিরের জন্য রোজা রাখার নিয়ম
সফরে থাকা বা মুসাফির ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে বিশেষ
ছাড় দেওয়া হয়েছে। মুসাফিরের রোজা রাখার প্রধান নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ-
- এক,, রোজা রাখা বা না রাখার স্বাধীনতা অনুমতি মুসাফিরের জন্য রমজানের রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে এই রোজা পরে সুবিধামতো সময়ে কাজা (একটি রোজার পরিবর্তে একটি) আদায় করতে হবে। উত্তম কোনটি যদি সফর খুব বেশি কষ্টকর না হয়, তবে রোজা রাখাই উত্তম। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আর যদি রোজা রাখো, তবে তােমাদের জন্য কল্যাণকর (সূরা বাকারাঃ ১৮৪)।
- দুই,,মুসাফির হওয়ার শর্ত (দূরত্ব ও সময়) দূরত্ব সফরটি যদি নিজের এলাকা থেকে অন্তত ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের হয়, তবেই একজন ব্যক্তি মুসাফির হিসেবে এই ছাড় পাবেন।
- তিন,, কখন রোজা না রাখা ভালোঃ যদি রোজা রাখার কারণে অনেক বেশি কষ্ট হয় বা স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি থাকে, তবে রোজা তবে রোজা না রাখাই শ্রেয়। অতিরিক্ত কষ্টের সময় রোজা রাখা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।
- চার,, অবস্থানের সময়ঃ গন্তব্যে পৌছাঁনোর পর যদি সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে, তবে তিনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। এর বেশি সময় থাকার পরিকল্পনা থাকলে তাকে সাধারণের মতো রোজা রাখতে হবে।
রোজা রেখে ভ্রমণে বের হলে করণীয় সাহরি খেয়ে বের হলেঃ যদি কেউ রোজা রেখে দিনের
বেলা ভ্রমণে বের হন, তবে ওই দিনের রোজাটি পূর্ণ করা আবশ্যক। সফর শুরু করার
অজুহাতে মাঝপথে রোজা ভাঙা জায়েজ নেই। কখন রোজা না রাখার নিয়ত করা যায় যদি কেউ
সুবহে সাদিকের আগেই সফর শুরু করেন, তবে তিনি সেদিন থেকেই রোজা না রাখার সুযোগ
পাবেন।
বিশেষ ক্ষেত্রে (চালক ও নিয়মিত ভ্রমণকারী) যারা পেশাগত কারণে সবসময় সফরে থাকেন
(যেমনঃ দূরপাল্লার ড্রাইভার, পাইলট বা নাবিক) তারা চাইলে রোজা ভাঙতে পারেন। তবে
পরে তাদের আগেরগুলো কাজা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ মুসাফির অবস্থায় রোজা না
রাখলে কোনো কাফফারা দিতে হয় না, শুধু সমপরিমাণ রোজা পরে আদায় করলেই চলে।
শেষ কথাঃ রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
রমজান মাসের ফজিলত, ক্যালেন্ডার ২০২৬ - সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী। রমজান মাস
আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস এই মাসে আমাদের অনেক
আমল করা দরকার। একটি সঠিক রমজান ক্যালেন্ডার আমাদের প্রতিদিনের সাহরি ও ইফতার
সময় মতো করতে সাহায্য করে এবং ইবাদতের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক
হয়।
২০২৬ সালের রমজানের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখলে এই বরকতময় মাসকে আরও
সুন্দরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দান-সদকা ও
দোয়ার মাধ্যমে আমরা এই মাসের রহতম ও মাগফিরাত অর্জন করতে পারি। আল্লাহ তাআলা
আমাদের সবাইকে রমজান ২০২৬ যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন-আমিন।



সকল বিশ্ব এর নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url