সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
কুরবানি সংক্রান্ত সঠিক নিয়মগুলো জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই এই মহান ইবাদতটি সম্পন্ন করতে পারি। যেহেতু কুরবানি ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তাই এর খুঁটিনাটি বিষয় বা মাসআলাগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আমাদের সবার জন্য খুবই জরুরি। আপনাদের ইবাদত যেন নির্ভুল এবং আল্লাহর কাছে কবুল হয়,
সেই সুবিধার্থেই কুরবানি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি মাসআলা এখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।তাই দেরি না করে চলুন, কুরবানি বিষয়ক এই জরুরি ১০০টি নিয়ম ঝটপট জেনে নেই। এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মাসআলা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
পেজ সূচীপত্রঃ সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
- সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
- কুরবানি কার ওপর ওয়াজিব হয়
- কত টাকা বা সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হয়
- কুরবানি বিষয়ক ১০০ টি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
- লেখকের শেষ কথাঃ সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
যা আমাদের জানা প্রয়োজনআমরা সবাই জানি যে, কুরবানি ইসলামের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও স্মৃতিবিজড়িত ইবাদত। এটি আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর সেই মহান ত্যাগের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা তিনি মহান আল্লাহর আদেশে সম্পন্ন করেছিলেন। কুরবানি যেহেতু একটি বড় ইবাদত, তাই এটি সঠিকভাবে পালনের জন্য এর মাসআলা বা নিয়মগুলো জেনে নেওয়া আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
আপনাদের ইবাদতকে আরও সহজ ও নির্ভুল করতে এই আর্টিকেলে কুরবানি বিষয়ক ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, কাদের ওপর কুরবানি বাধ্যতামূলক এবং ঠিক কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে কুরবানি দেওয়ার আগে এই নিয়মগুলো ভালোভাবে ঝালিয়ে নেওয়া আপনার ইবাদতকে আরও সার্থক করে তুলবে।
কুরবানি কার ওপর ওয়াজিব হয়
কুরবানির নিয়মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কার ওপর কুরবানি করা বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব? মহান আল্লাহ ইবাদতের এই নিয়মগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সাধারণ ভাষায়, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কুরবানি করা আবশ্যক হয়ে যায়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর-নারী যিনি মুকিম বা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।
এর সময়সীমা হলো ১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে যদি কারো কাছে নিজের প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে নিসাব পরিমাণ বা তার বেশি সম্পদ থাকে, তবে তাকে অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে।নিসাব বা সম্পদের পরিমাণঃ শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী, সম্পদের পরিমাণ যদি স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি হয় অথবা রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে ৫২ ভরি হয়, তবে তাকে নিসাব বলা হয়। বর্তমান সময়ে অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার বাজারমূল্যকে মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়।
যদি কারো কাছে সোনা বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু উভয়টি মিলিয়ে অথবা এর সাথে নগদ টাকা বা বাড়তি আসবাবপত্রের দাম যোগ করলে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের সমান হয়, তবে তার ওপরও কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। এক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য বিষয়গুলো হলো সোনার গয়না, রুপা, জমানো টাকা, বাৎসরিক খোরাকির বাইরে অতিরিক্ত জমি এবং ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। {সূত্রঃ বাদায়েউস সানায়ে ৪-১৯৬, আলমুহীতুল বুরহানী ৮-৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭-৪০৫}
কত টাকা বা সম্পদ থাকলে কুরবানি দিতে হয়
কুরবানি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো সম্পদের হিসাব। সহজ কথায়, কুরবানির নির্ধারিত তিন দিন অর্থাৎ ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে যদি কোনো ব্যক্তির কাছে সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের বাড়তি সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। এর চেয়ে কম সম্পদের মালিক হলে কুরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। {সূত্র: আহকামুল কুরআন ৩-১২৮, আলমুহীতুল বুরহানী ৮-৪৫৫}
সম্পদের হিসেবে যা যা যুক্ত হবে আপনার কাছে থাকা নগদ টাকা, সোনা বা রুপার গয়না, ব্যবসার পণ্য, বাড়তি জমি এবং সারা বছরেও প্রয়োজন হয় না এমন অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের দাম-এই সবকিছুর মোট মূল্য যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার বর্তমান বাজারমূল্যের সমান হয়, তবে আপনার ওপর কুরবানি করা আবশ্যক।কুরবানির সওয়াব ও মর্যাদা কুরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে অনেক বড় সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এক হাদিসে বলা হয়েছে, কুরবানির দিনে পশু জবাই করার চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় আর কোনো কাজ নেই। {সূত্রঃ জামে তিরমিযী ১-১৮০}
হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, মহানবী (সাঃ) বিবি ফাতেমা (রাঃ)-কে তার কুরবানির পশুর পাশে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে, পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই আল্লাহ তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। যখন জিজ্ঞেস করা হলো এটি কি কেবল নবীর পরিবারের জন্য নাকি সবার জন্য? তখন তিনি জানিয়েছিলেন, এই বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমা লাভ করবেন কুরবানি করা সকল মুসলমান। {সূত্রঃ আলমুততাজিরুর রাবেহ ৩১৬, মাজমাউয যাওয়াইদ ৪-১৭}
কুরবানি বিষয়ক ১০০ টি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
যা জানা সবার জন্য জরুরি ইসলামে প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট মাসআলা বলা হয়েছে। একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে অবশ্যই সেই মাসআলা জেনে তারপরে কাজ করতে হবে। কুরবানি যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই কুরবানি বিষয়ক এই মাসআলাগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া আমাদের ইবাদতের জন্য খুবই ভালো একটি মাধ্যম।
মাসআলা - ১ঃ যে ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করবেন। অতঃপর সম্ভব হলে জীবিত বা মৃত পিতা-মাতা বা অন্যদের পক্ষ থেকে কুরবানি করতে পারেন। নিজের ওয়াজিব কুরবানি না করে অন্যদের পক্ষ হয়ে কুরবানি করা সঠিক নিয়ম নয়। কারণ এতে ওই ব্যক্তির ওয়াজিব কুরবানি আদায় হয় না। {ফাতাওয়ায় মাহমুদিয়া ১৭-৩১২}
মাসআলা - ২ঃ কোনো গরিব ব্যক্তি কুরবানির উদ্দেশ্যে পশু কেনার পর তা মারা যায়, হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তবে তার জন্য পুনরায় কুরবানি করা আবশ্যক নয়। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬৬}
মাসআলা - ৩ঃ কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কারো অনুমতি নিয়ে তার পক্ষ হয়ে কুরবানি করে দেয়, তবে ওই ব্যক্তির কুরবানি আদায় হয়ে যাবে। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬৭}
মাসআলা - ৪ঃ সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত পশু দিয়ে কুরবানি করা উত্তম। পশুর কোনো বড় ধরনের অঙ্গহানি থাকলে কুরবানি হবে না। {আলমগিরি ৫-২৯৭}
মাসআলা - ৫ঃ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে যেকোনো দিন কুরবানি করা যায়। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২০}
মাসআলা - ৬ঃ মুসাফির বা সফরকারীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে কেউ চাইলে নফল হিসেবে কুরবানি করতে পারেন। {কাজি খান ৩-৩৪৪}
মাসআলা - ৭ঃ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি শেষ হওয়া পর্যন্ত নখ বা চুল না কাটা সওয়াবের কাজ। {মুসলিম শরীফ}
মাসআলা - ৮ঃ কুরবানির পশু কেনার সময় এর বয়স নিশ্চিত করা জরুরি। দাঁত দেখে বয়স যাচাই করা একটি সহজ উপায়। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭০}
মাসআলা - ৯ঃ নিজের উপার্জিত হালাল টাকা দিয়ে কুরবানির পশু কেনা শর্ত। হারাম টাকা মিশ্রিত থাকলে ইবাদত কবুল হবে না। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২১}
মাসআলা - ১০ঃ কুরবানির পশু কেনার পর সেটিকে ভালো খাবার দেওয়া এবং যত্ন করা ইমানের পরিচায়ক। {মুসনাদে আহমদ}
মাসআলা - ১১ঃ পশুর একটি কান বা একটি চোখ যদি একদম নষ্ট থাকে, তবে সেই পশু দিয়ে কুরবানি হবে না। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৫}
মাসআলা - ১২ঃ যে পশুর একটি পা ল্যাংড়া এবং তা মাটিতে ভর দিয়ে চলতে পারে না, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নেই। {আলমগিরি ৫-২৯৭}
মাসআলা - ১৩ঃ অতিশয় জীর্ণ ও দুর্বল পশু যা জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না, তা দিয়ে কুরবানি হবে না। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৬}
মাসআলা - ১৪ঃ পশুর শিং যদি গোড়া থেকে ভেঙে যায় তবে কুরবানি হবে না। তবে মাঝখান থেকে ভাঙলে অসুবিধা নেই। {কাজিখান ৩-৩৪৮}
মাসআলা - ১৫ঃ পশুর দাঁত যদি সব পড়ে যায় তবে কুরবানি হবে না। তবে অধিকাংশ দাঁত থাকলে কুরবানি জায়েজ। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২১}
মাসআলা - ১৬ঃ উটের কুঁজ যদি কাটা থাকে বা নষ্ট হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানি করা মকরুহ। {আলমগিরি ৫-২৯৮}
মাসআলা - ১৭ঃ কুরবানির পশুতে কোনো অংশীদার নিতে চাইলে পশু কেনার আগেই তা ঠিক করে নেওয়া ভালো। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭১}
মাসআলা - ১৮ঃ উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে এক বছরের মতো মনে হয়, তাহলে তা দ্বারাও কুরবানি করা জায়েজ। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে। উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েজ হবে না। {বাদায়েউস সানায়ে ৩-৩৪৮}
মাসআলা - ১৯ঃ একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানি দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানি করলে কারোটাই সহিহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কুরবানি সহিহ হবে না। {বাদায়েউস সানায়ে ১৩১৮, কাজিখান ১-৩১৯}
মাসআলা - ২০ঃ সাতজন মিলে কুরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরিকের কুরবানিই সহিহ হবে না। উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানি করা জায়েজ। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩১৭}
মাসআলা - ২১ঃ যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানি না করে শুধু মাংস খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করে তাহলে তার কুরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরিকদের কারো কুরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরিক নির্বাচন করতে হবে। {কাজিখান ৪-২০৮}
মাসআলা - ২২ঃ কুরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে। এতে কুরবানি ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৬}
মাসআলা - ২৩ঃ যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট এককভাবে কুরবানি দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরিক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭১}
মাসআলা - ২৪ঃ জবাই করার সময় পশুকে কিবলামুখী করে শোয়ানো সুন্নত। {আলমগিরি ৫-৩০০}
মাসআলা - ২৫ঃ জবাই করার সময় অবশ্যই 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে। ইচ্ছা করে না বললে মাংস হারাম হয়ে যাবে। {সুরা আনআম ১২১}
মাসআলা - ২৬ঃ নিজের পশু নিজে জবাই করা উত্তম। অন্যকে দিয়ে করালে নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকা ভালো। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৮}
মাসআলা - ২৭ঃ জবাইয়ের পর পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা পা কাটা মকরুহ। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬০}
মাসআলা - ২৮ঃ কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে পশুর মাংস বা চামড়া দেওয়া জায়েজ নেই। {বুখারি শরীফ ১-২৩১}
মাসআলা - ২৯ঃ পশুর নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করে খাওয়া জায়েজ, তবে প্রবাহিত রক্ত খাওয়া হারাম। {সুরা আনআম ১৪৫}
মাসআলা - ৩০ঃ কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ নিজের, এক ভাগ আত্মীয়র ও এক ভাগ গরিবের। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৮১}
মাসআলা - ৩১ঃ কুরবানির মাংস বিক্রি করা জায়েজ নেই। করলে সেই টাকা দান করে দেওয়া ওয়াজিব। {কাজিখান ৩-৩৫৪}
মাসআলা - ৩২ঃ পশুর চামড়া বিক্রি করলে তার পুরো টাকা সদকা করে দিতে হবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩৩৯}
মাসআলা - ৩৩ঃ চামড়ার টাকা মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনের বেতন হিসেবে দেওয়া জায়েজ নেই। {আলমগিরি ৫-৩০১}
মাসআলা - ৩৪ঃ মানতের কুরবানির মাংস নিজে খাওয়া যাবে না, সবটুকুই দান করতে হবে। {শামি ৬-৩২৫}
মাসআলা - ৩৫ঃ যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানি ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও না করে, তবে সে গুনাহগার হবে। {ইবনে মাজা}
মাসআলা - ৩৬ঃ পশুর রক্ত বা হাড় যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়। এগুলো মাটি চাপা দেওয়া ভালো। {সুরা হজ}
মাসআলা - ৩৭ঃ কুরবানির পশুর হাড় বা চর্বি বিক্রি করা নিষিদ্ধ। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৮১}
মাসআলা - ৩৮ঃ এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, যা পরিহার করা উচিত। {হাদিস}
মাসআলা - ৩৯ঃ ছুরি আগে থেকেই ভালোভাবে ধার দিয়ে নিতে হবে যাতে পশুর কষ্ট কম হয়। {মুসলিম শরীফ}
মাসআলা - ৪০ঃ মৃত ব্যক্তির অসিয়ত থাকলে তার পক্ষ থেকে কুরবানি করা ওয়াজিব এবং তা দান করতে হবে। {শামি ৬-৩২৬}
মাসআলা - ৪১ঃ কুরবানির মাংস তিন দিন বা তার বেশি সময় জমিয়ে রাখা জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ নেই। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৮১}
মাসআলা - ৪২ঃ পশুর হাড় থেকে মজ্জা বের করে খাওয়া জায়েজ। তবে পশুর শরীরের প্রবাহিত রক্ত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। {সুরা আনআম ১৪৫}
মাসআলা - ৪৩ঃ কুরবানির চামড়া যদি কেউ বিক্রি না করে নিজে জায়নামাজ, দস্তখত বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে চায়, তবে তা জায়েজ। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩৩৯}
মাসআলা - ৪৪ঃ কুরবানির চামড়া বিক্রি করলে তার টাকা কেবল গরিব-মিসকিন এবং এতিমদের হক। এটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা যাবে না। {আলমগিরি ৫-৩০১}
মাসআলা - ৪৫ঃ পশুর গলায় থাকা রশি বা পিঠের ওপর দেওয়া চট বা কাপড় সদকা করে দেওয়া মুস্তাহাব। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৮১}
মাসআলা - ৪৬ঃ যদি কোনো পশু কেনার পর সেটি গর্ভবতী জানা যায়, তবে তা কুরবানি করা জায়েজ। জবাইয়ের পর বাচ্চা জীবিত পাওয়া গেলে সেটিও জবাই করতে হবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২২}
মাসআলা - ৪৭ঃ জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর 'তাকবিরে তাশরিক' বলা ওয়াজিব। {কাজিখান ১-৪৬}
মাসআলা - ৪৮ঃ কুরবানির পশু কেনার সময় কোনো নির্দিষ্ট খুঁত বা ত্রুটি না থাকলে পরে তা দেখা দিলে কুরবানি হয়ে যাবে (ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে উত্তম হলো বদলে নেওয়া)। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৫}
মাসআলা - ৪৯ঃ পশুর কান যদি লম্বালম্বিভাবে চেরা থাকে বা ফুটো থাকে কিন্তু এক-তৃতীয়াংশের বেশি না হয়, তবে কুরবানি জায়েজ। {আলমগিরি ৫-২৯৮}
মাসআলা - ৫০ঃ খাসি করা ছাগল বা ভেড়া দিয়ে কুরবানি করা কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি উত্তম। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৫}
মাসআলা - ৫১ঃ কুরবানির পশুর দুধ দোহানো বা তার পশম কেটে বিক্রি করা যাবে না। যদি করা হয়, তবে সেই টাকা সদকা করতে হবে। {আলমগিরি ৫-৩০০}
মাসআলা - ৫২ঃ কুরবানির পশু দিয়ে কোনো প্রকার জমি চাষ করা বা মাল বহন করা মকরুহ। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৯}
মাসআলা - ৫৩ঃ জবাই করার সময় পশুর কণ্ঠনালী, খাদ্যনালী এবং দুপাশের দুটি রক্তবাহী রগের মধ্যে অন্তত তিনটি কাটা জরুরি। {কাজিখান ৩-৩৫৪}
মাসআলা - ৫৪ঃ পশুকে জবাই করার স্থানে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। দয়ার সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬০}
মাসআলা - ৫৫ঃ যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানি করার পর বুঝতে পারে যে পশুটি চুরির ছিল, তবে তার কুরবানি হবে না। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২১}
মাসআলা - ৫৬ঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নফল কুরবানি করা হলে তার মাংস নিজে খাওয়া এবং আত্মীয়দের দেওয়া জায়েজ। {ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৭-৪২৫}
মাসআলা - ৫৭ঃ কুরবানির মাংস অন্য ধর্মের মানুষকে উপহার হিসেবে দেওয়াতে কোনো বাধা নেই। {আলমগিরি ৫-৩০০}
মাসআলা - ৫৮ঃ যে পশুর কান জন্মগতভাবেই নেই, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নেই। তবে কান ছোট থাকলে হবে। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৬}
মাসআলা - ৫৯ঃ কুরবানির পশুর নাড়িভুঁড়ি কসাইকে পরিষ্কার করার পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৮}
মাসআলা - ৬০ঃ কসাই যদি নিজের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে পশুর চামড়া বা মাংস চায় পারিশ্রমিক বা মজুরি হিসেবে, তা দেওয়া বৈধ নয়। {আলমগিরি ৫-৩০১}
মাসআলা - ৬১ঃ গ্রামের মানুষ যাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়, তারা ১০ জিলহজ সুবহে সাদিকের পর থেকেই কুরবানি করতে পারবেন। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৩}
মাসআলা - ৬২ঃ শহরের বাসিন্দাদের জন্য ঈদের জামাত শেষ হওয়ার আগে কুরবানি করা জায়েজ নেই। করলে তা কেবল মাংস হিসেবে গণ্য হবে, কুরবানি হবে না। {কাজিখান ৩-৩৪৪}
মাসআলা - ৬৩ঃ যদি কোনো এলাকায় একাধিক জায়গায় ঈদের নামাজ হয়, তবে যেকোনো এক জায়গায় জামাত শেষ হলেই কুরবানি করা যাবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩১৮}
মাসআলা - ৬৪ঃ পশুর রগ কাটার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলতে ভুলে গেলে মাংস খাওয়া জায়েজ, কিন্তু ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে তা হারাম। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬০}
মাসআলা - ৬৫ঃ গায়ের জোরে বা চাপ প্রয়োগ করে পশুকে নিস্তেজ করা বা মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করা যাবে না। {আলমগিরি ৫-৩০০}
মাসআলা - ৬৬ঃ কুরবানির দিনগুলোতে নফল রোজা রাখা নিষেধ। {বুখারি শরীফ}
মাসআলা - ৬৭ঃ যদি কোনো পশু কেনার পর পাগল হয়ে যায় এবং ঘাস-পানি না খায়, তবে তা দিয়ে কুরবানি হবে না। {কাজিখান ৩-৩৪৮}
মাসআলা - ৬৮ঃ কুরবানির বড় পশুর সাত ভাগের এক ভাগ পূর্ণ হতে হবে। এক ভাগের কম অংশ নিলে কারো কুরবানি হবে না। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩১৭}
মাসআলা - ৬৯ঃ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক না হন, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। {আলমগিরি ৫-২৯২}
মাসআলা - ৭০ঃ কুরবানির পশু কেনার পর যদি বাছুর প্রসব করে, তবে ওই বাছুরটিও জবাই করা বা জীবিত সদকা করা জরুরি। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৮}
মাসআলা - ৭১ঃ কুরবানি দাতা পশুর রক্ত নিজের কপালে লাগানো বা অন্য কোনো কুসংস্কারে বিশ্বাস করা গোনাহের কাজ। {ফাতাওয়ায়ে শামি}
মাসআলা - ৭২ঃ হজে থাকাকালীন মুসাফির অবস্থায় থাকলে হাজিদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয় না (দম বা হজের কুরবানি আলাদা)। {কাজিখান ৩-৩৪৪}
মাসআলা - ৭৩ঃ কুরবানির রক্ত বা বর্জ্য দিয়ে রাস্তাঘাট নোংরা করা যাবে না। এটি পরিষ্কার রাখা ইমানের অঙ্গ। {হাদিস}
মাসআলা - ৭৪ঃ কুরবানির পশু কেনার সময় বিক্রেতার সাথে দরদাম করা জায়েজ। {আলমগিরি ৫-২৯৭}
মাসআলা - ৭৫ঃ পশুর জিব বা কলিজা খাওয়া জায়েজ এবং এতে কোনো বাধা নেই। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৬}
মাসআলা - ৭৬ঃ অংশীদারদের মধ্যে কারো উপার্জন যদি সম্পূর্ণ হারাম হয়, তবে ওই পশুর সব শরিকের কুরবানি বাতিল হয়ে যাবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩১৭}
মাসআলা - ৭৭ঃ কুরবানির মাংস দিয়ে অন্যকে আপ্যায়ন করা বা মেজবানি করা জায়েজ। {আলমগিরি ৫-৩০০}
মাসআলা - ৭৮ঃ নিজের দেশের টাকা দিয়ে অন্য দেশে কারো মাধ্যমে কুরবানি করানো জায়েজ। {ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৭-৪৩০}
মাসআলা - ৭৯ঃ পশুর পিঠে চড়ে হাটে যাওয়া বা মালামাল বহন করা পশুর প্রতি অবিচার, যা পরিহার করা উচিত। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৯}
মাসআলা - ৮০ঃ আল্লাহ তায়ালা কেবল বান্দার অন্তরের পরহেজগারি দেখেন। তাই বড় পশু বা দামী পশুর চেয়ে সহিহ নিয়ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। {সুরা হজ ৩৭}
মাসআলা - ৮১ঃ কুরবানির পশু জবাই করার জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করা আবশ্যক, যাতে পশুর কষ্ট কম হয়। ভোঁতা ছুরি দিয়ে জবাই করা পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা এবং এটি মকরুহ। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬০}
মাসআলা - ৮২ঃ যদি কোনো পশু কেনার সময় ভালো থাকে কিন্তু পরে এমন কোনো খুঁত দেখা দেয় যার কারণে কুরবানি জায়েজ হয় না, তবে ধনী ব্যক্তির জন্য নতুন পশু কেনা জরুরি। কিন্তু গরিব হলে ওই পশু দিয়েই কুরবানি হবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৫}
মাসআলা - ৮৩ঃ কুরবানির পশুর হাড় গুড়ো করে তা দিয়ে সার বানানো বা বিক্রি করা জায়েজ নেই। তবে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। {আলমগিরি ৫-৩০১}
মাসআলা - ৮৪ঃ কুরবানির পশু যদি পাগল হয় কিন্তু সে ঘাস ও পানি ঠিকমতো খায়, তবে তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ। {কাজিখান ৩-৩৪৮}
মাসআলা - ৮৫ঃ পশুর অণ্ডকোষ ফেলে দেওয়া হয়েছে এমন পশু (খাসি) দিয়ে কুরবানি করা কেবল জায়েজই নয়, বরং এর মাংস সুস্বাদু হওয়ায় এটি উত্তম। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৭৬}
মাসআলা - ৮৬ঃ কুরবানির পশু জবাই করার পর পশুর রক্ত গর্ত করে পুঁতে ফেলা মুস্তাহাব। এতে পরিবেশ পবিত্র থাকে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২০}
মাসআলা - ৮৭ঃ যদি কোনো ব্যক্তি মানত করে যে "আমার এই কাজ হলে আমি কুরবানি দেব", তবে কাজ হওয়ার পর তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬৬}
মাসআলা - ৮৮ঃ মানতের কুরবানির মাংস থেকে মালিক বা তার ধনী আত্মীয়স্বজন খেতে পারবে না; পুরো মাংস গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৫}
মাসআলা - ৮৯ঃ কুরবানির পশু কেনার পর যদি দেখা যায় তার ওলান বা বাঁট কাটা, তবে তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নেই। {আলমগিরি ৫-২৯৮}
মাসআলা - ৯০ঃ উট জবাই করার সুন্নত নিয়ম হলো তাকে দাঁড়ানো অবস্থায় নহর করা। তবে গরু বা ছাগলের মতো শুইয়ে জবাই করলেও কুরবানি আদায় হবে। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬০}
মাসআলা - ৯১ঃ কুরবানির জন্য পশু কেনা হয়ে গেলে সেই পশুকে আর অন্য কাজে ব্যবহার করা ঠিক নয়। পশুর আরাম নিশ্চিত করা মালিকের দায়িত্ব। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৯}
মাসআলা - ৯২ঃ কুরবানির সময় কোনো অংশীদার যদি হুট করে মারা যান এবং তার ওয়ারিশরা যদি সেই কুরবানি বহাল রাখতে চায়, তবে তা জায়েজ হবে। {আলমগিরি ৫-৩০৫}
মাসআলা - ৯৩ঃ কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের পশু ভুলবশত নিজের মনে করে জবাই করে ফেলে, তবে ওই পশুর মালিক রাজি থাকলে কুরবানি সহিহ হয়ে যাবে। {কাজিখান ৩-৩৫৪}
মাসআলা - ৯৪ঃ অন্ধ ব্যক্তির ওপর যদি কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার মতো সম্পদ থাকে, তবে তাকেও কুরবানি দিতে হবে। {বাদায়েউস সানায়ে ৫-৬৪}
মাসআলা - ৯৫ঃ কুরবানির মাংস দিয়ে হিন্দু বা অন্য ধর্মের প্রতিবেশীকে আপ্যায়ন করা বা কাঁচা মাংস উপহার দেওয়া ইসলামি ভ্রাতৃত্বের পরিচায়ক। {ফাতাওয়ায়ে শামি ৬-৩২৬}
মাসআলা - ৯৬ঃ পশুর লেজ যদি অর্ধেকের বেশি কাটা থাকে, তবে তা দিয়ে কুরবানি হবে না। {কাজিখান ৩-৩৪৮}
মাসআলা - ৯৭ঃ কুরবানির পশু জবাই করার সময় নিজের হাত রক্তে রঞ্জিত হওয়া বা কপালে রক্ত লাগানো জাহেলি আমলের প্রথা, যা বর্জনীয়। {ফাতাওয়ায়ে শামি}
মাসআলা - ৯৮ঃ কুরবানির দিনগুলোতে রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। {বুখারি শরীফ}
মাসআলা - ৯৯ঃ কুরবানি কেবল পশু জবাই করার নাম নয়, বরং এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ পায়। {সুরা হজ ৩৭}
মাসআলা - ১০০ঃ কুরবানি শেষ হওয়ার পর জবাই করার স্থান পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য অপসারণ করা প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় ও নাগরিক দায়িত্ব। {হাদিস}
লেখকের শেষ কথাঃ সঠিকভাবে কুরবানি করার ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
প্রিয় পাঠকগণ, আজকের এই আর্টিকেলে কুরবানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু কুরবানি একটি মহান ইবাদত, তাই এর সঠিক নিয়মগুলো আমাদের সবারই ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি কাজের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মেনে চললে আমাদের ইবাদত আল্লাহর কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়।
আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন, তবে আশা করি কুরবানি বিষয়ক এই ১০০টি মাসআলা সম্পর্কে আপনি এখন স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছেন। যদি কোনো অংশ বাদ পড়ে থাকে, তবে সঠিক উপায়ে কুরবানি সম্পন্ন করার জন্য আরও একবার শুরু থেকে পড়ে নেওয়ার অনুরোধ রইলো। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।



সকল বিশ্ব এর নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url