আর্টিকেল SEO ফ্রেন্ডলি বাংলা কন্টেন্ট কিভাবে লিখতে হয়

 বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো আর্টিকেল রাইটিং। শুধু লিখতে জানলেই ভালো আর্টিকেল লিখা যাই না। বরং সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করে, তথ্যগুলো সাজিয়ে ভালোভাবে উপস্থাপনা করাই একটি মানসম্মত আর্টিকেলের মূল কারুন।

শুধুমাত্র একটি সঠিক গাইডলাইন মেনে সহজেই মানসম্মত আর্টিকেল লিখা সম্ভব। তাই কিভাবে একটি মানসম্মত আর্টিকেল লিখবেন এটি জানার প্রয়োজন, মানসম্মত একটি আর্টিকেল লিখার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

পেজ সূচীপত্রঃ আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হয়।

আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম কিভাবে লিখতে হয়।

একটি আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম একজন পাঠক কে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আকর্ষণ করে বা পড়ার আগ্রহ তৈরি করে। সুন্দর  একটি টাইটেল অথবা শিরোনাম পাঠক কে আর্টিকেলটি পড়তে উৎসাহিত করে। সুতরাং টাইটেল  অথবা শিরোনাম লেখার সময় এমন ভাবে লিখবেন যেন পাঠক পড়ার আগ্রহ করে।

আসুন টাইটেল অথবা শিরোনাম লেখার মূল কিছু কৌশল জানা যাক শুরুতেই আর্টিকেল বা পোস্ট এর শিরোনামটি ৫ থেকে ৮ শব্দের মধ্যে  লিখতে হবে এবং এই ৫ থেকে ৮ শব্দের টাইটেল ৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে। শিরোনাম বা টাইটেলের শুরুতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে যেন মানুষ আকর্ষিত হয়, যেন পাঠকের মনে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আগ্রহ হয়।

আর্টিকেল বা পোস্ট টাইটেল লোভনীয় করে লিখতে হবে। পাঠক যেন দেখার সাথে সাথে থেমে যায় এবং আপনার পোস্টের মধ্যে ক্লিক করতে বাধ্য হয়। নিম্নে দেওয়া এমন শব্দ ব্যবহার করতে পারেন যেমন: কার্যকরী, গোপনীয়তা ১০ টি টিপস ইত্যাদি। পাঠকদের মনে যেন কৌতুহল তৈরি করে তেমন শব্দ ব্যবহার করবেন। এবং পোস্ট টাইটেলের মধ্যে (? !-।) এগুলো চিহ্ন ছাড়া অন্য কোন জতি চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

আর্টিকেলের শুরুতে ভূমিকা বাটন কেন ব্যবহার করবেন

একটি আর্টিকেলের শুরুতেই যদি পাঠক প্রয়োজনীয় আরো রিলেটেড আর্টিকেল বা পোস্ট পেয়ে যায় তাহলে তার আগ্রহ আপনার ওয়েবসাইডের মধ্যেই ধরে রাখা সম্ভব হবে, এজন্য পাঠকের সুবিধার জন্য পোস্ট বা আর্টিকেলের শুরুতে একটি ভূমিকা বাটন ব্যবহার করবেন। শুধু ভূমিকা বাটন ব্যবহার করলেই হবে না। ভূমিকা বাটন দিয়ে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে, পাঠক যেন সেই পোস্ট বা আর্টিকেলের মধ্যে ক্লিক করতে বাধ্য হয়।

আর্টিকেল বা পোস্ট এর শুরুতে শুধুমাত্র একটা ভূমিকা বাটন বানাতে হবে, এবং এই ভূমিকা  বাটনের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শব্দ ব্যবহার করবেন এর থেকে বেশি শব্দ ব্যবহার করবেন না। ভূমিকা বাটন এর মধ্যে অন্য রিলেটেড পোস্ট এর ফোকাস কিওয়ার্ড ভূমিকা বাটনে ব্যবহার করবেন যেন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভূমিকা বাটন কালার হবে আপনার ওয়েবসাইডের থিমের মেইন কালারটি ভূমিকা বাটনে ব্যবহার করবেন।

আর্টিকেলের মেটা ডেসক্রিপশন কি? এবং কতটুকু লিখবেন।

মেটা ডেসক্রিপশন হলো একটি আর্টিকেলের বা পোস্টের সংক্ষিপ্ত পরিচিয়। মেটা ডেসক্রিপশন একটি পোস্টের মধ্যে কি কি বিষয় বলা হয়েছে বা আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্টিকেল বা পোস্টটি কেন পড়বেন তা পাঠকদের আগে থেকেই ‍বুঝতে সাহায্য করে। সুন্দর ভাবে মেটা ডেসক্রিপশন লিখা থাকলে পাটা সেই পোস্ট বা আর্টিকেল পুরোটাই পড়ার জন্য আগ্রহ গড়ে তুলে ।

আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় পেমেন্ট বিকাশে মাসে ১৫০০০ টাকা


মেটা ডেসক্রিপশন সাধারণত ছোট হয়। একটি পোস্ট বা আর্টিকেলের মেটা ডেসক্রিপশন মোট চার লাইন  লিখবেন। এবং এই চার লাইন মেটা ডেসক্রিপশনের মধ্যে একটি ফিচার ইমেজ ব্যবহার করবেন। ভূমিকা বাটন এর নিচে এবং ফিচার ইমেজ এর উপরে দুই লাইন লিখবেন। এবং ফিচার ইমেজের নিচে পেজ সূচীপত্র এর ওপরে দুই লাইন লিখবেন।

আর্টিকেলের পেজ সূচীপত্র সাজানোর নিয়ম।

একটি আর্টিকেল বা পোস্টের জন্য পেজ সূচীপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন পাঠক পেজ সূচীপত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারে আর্টিকেল বা পোস্ট এর ভিতরে কোন কোন  বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং কোন অংশে কোন বিষয়  নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একটি আর্টিকেল যতই সুন্দর ভাবেই লেখা হোক না কেন, যদি সেটা অগোছালো থাকে তাহলে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আর একটি আর্টিকেল বা পোস্টকে গুছিয়ে রাখার জন্য পেজ সূচীপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি পেজ সূচীপত্র সুন্দর এবং সাজিয়ে রাখার জন্য আমাদের যে বিষয় গুলো জানার প্রয়োজন সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো: 

  • পেজ সূচীপত্র ফোকাস কিওয়ার্ড  দিয়ে লিখতে হবে।
  • ফোকাস কিওয়ার্ড এর নিচে ১২ লাইন হেডিং ব্যবহার করবেন (অর্থাৎ একটি আর্টিকেল পোস্ট এর পেজ সূচীপত্রে ১২ টা বিষয় ব্যবহার করবেন।
  • প্রথম হেডিং ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে লিখবেন।

আর্টিকেলের  হেডিং সাজানোর নিয়ম।

একটি আর্টিকেল বা পোস্টে মধ্যে তথ্যবহুল লেখা যথেষ্ট না। আচ্ছা আপনি এখন চিন্তা করে দেখেন আপনি যখন কোন আর্টিকেল বা পোস্ট পড়া শুরু করেন তখন কিভাবে বুঝতে পারেন আপনি যে অংশটুকু পড়তেছেন সেই অংশে কোন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, তখন অবশ্যই হেডিং দেখে বুঝতে পারেন, তাহলে এবার ভাবেন একটি আর্টিকেল বা পোস্টর জন্য হেডিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি আর্টিকেল হলো একটি গল্প এবং হেডিং হলো সেই গল্পের মূল বা স্তম্ভ।

আরো পড়ুনঃ আর্টিকেল রাইটিং জবের ফরম পূরণের নিয়ম


একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর হেডিং সাজানোর সময় আমাদের কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে সাজাতে হবে চলুন সে বিষয়ে আলোচনা করি। প্রথমেই বলি একটা হেডিং কত শব্দের মধ্যে লেখা উচিৎ, সবসময় একটা হেডিং ৫ থেকে ৮ টি শব্দের মধ্যে লিখার চেষ্টা করবেন। এরপর প্রতিটি হেডিং এর নিচে সর্বনিম্ন দুইটি প্যারা লিখতেই হবে। দুইটি প্যারার কম লিখা যাবে না। এবং প্রতিটি হেডিং এর নিচে সর্বোচ্চ পাচঁটি প্যারা লিখা যাবে। কখনো পাচঁটি প্যারার বেশি লিখবেন না।

আর্টিকেলের প্রতিটি প্যারা কিভাবে লিখবেন এবং কত লাইন লিখবেন।

একটি আর্টিকেল বা পোস্ট সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপনা করার জন্য প্যারাগ্রাফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেকটি প্যারাগ্রাফ হলো ছোট ছোট গল্পের মতো। যদি প্যারাগ্রাফগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে না লেখা হয় তাহলে পাঠকরা বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে। সেজন্য প্রতিটি প্যারাগ্রাফ সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে। যেন পাঠকরা কোন বিভ্রান্ত  না হয়।

একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর প্যারাগ্রাফ সুন্দর ভাবে সাজিয়ে লেখার জন্য যে যে বিষয়গুলি জনতে হবে নিম্নে  দেয়া হলো:

  • আর্টিকেলের প্রত্যিকটি প্যারাগ্রাফ সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাইন লিখবেন। সাড়ে তিন লাইনের কমে লিখা যাবে না। 
  • প্রতিটি প্যারাগ্রাপ এর নিচে সর্বোচ্চ পাচঁ লাইন  লিখবেন।
  • যতটা পারা যায় সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

কিভাবে পোস্ট ফর্মেটিং করবেন।

বর্তমান সময়ে তথ্য শেয়ার করা খুব সহজ হলেও, পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। পোস্ট ফরমেটিং মানেই শুধুু ফন্ট বা রঙ ব্যবহার করা না। পোস্ট ফরমেটিং করে আপনি শুধুমাত্র আপনার পোস্ট আর্টিকেল সুন্দর ভাবে তৈরি করছেন না, বরং পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারবেন। পোস্ট ফর্মেটিং এমন একটা হাতিয়ার যা আপনার পোস্ট বা আর্টিকেলটিকে পাঠকদের আকর্ষণীয় করবে।

আরো পড়ুনঃ ১১ উপায়ে আর্টিকেল লিখে আয় করে পেমেন্ট বিকাশে নিন ২০২২


আর্টিকেল বা পোস্ট পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ  করার জন্য নিচে পোস্ট ফর্মেটিং করার সঠিক গাইডলাইন তুলে ধরা হলো:

  • একটি পোষ্টের মধ্যে অগোছালো ফন্ট অযথা বোল্ড অযথা কালার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • পোস্টের সবগুলো লেখা জাস্টিফাই ফরমেট রাখবেন।
  • বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পোস্টের মধ্যে ইটলিক ডিজাইন ব্যবহার করবেন না।
  • প্রতিটি পেস্টি বা আর্টিকেলের মধ্যে আরো পড়ুন সেকশন তিনটা করে রাখবেন।

আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজাতে হয়।

অনেক আর্টিকেল রাইটার আছে যারা শুরুর কথাগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখতে পারলেও আর্টিকেল লেখার শেষে এসে দ্বিধায় পড়ে যায়, আর্টিকেলের শেষ কথা সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখতে পারে না। একটি আর্টিকেলের শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ কথাটিও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন আর্টিকেল রাইটার শেষ কথার মধ্যে এসে তার আর্টিকেলের পুরো বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে। আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজিয়ে লিখতে হয় প্রতিটি লেখক এর জানা জরুরী।

আর্টিকেলের শেষ কথা সাজানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিম্নে দেওয়া হলো:

  • শেষ কথা বসাতে হবে ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে। 
  • সর্বনিম্ন দুইটা প্যারা দিয়ে শেষ কথা লিখবেন।
  • দুইটা প্যারার মধ্যে প্রথম প্যারাই পুরো আর্টিকেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে লিখবেন। এবং দ্বিতীয় প্যারায় নিজের মতামত দিবেন।

আর্টিকেল কখন লিখবেন এবং কখন পাবলিশ করবেন।

একটি পোস্ট আর্টিকেল লেখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত। কারণ এসময়ে আপনার মন-মাইন্ড সবকিছু ফ্রেশ থাকে। আপনি এ সময়টাতে যতটুকু কাজ করবেন বা আর্টিকেল লিখবেন সারাদিনও আপনি এতোটুকু কাজ করতে পারবেন না। কারণ এই সময়টাতে সবকিছু চুপচাপ থাকে কোলাহলমুক্ত থাকে নিরিবিলি কাজ করা যায়। কিন্তু আপনি যদি দিনে আর্টিকেল লিখতে বসেন তাহলে চুপচাপ কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশটা পাবেন না।

এজন্য চেষ্টা করবেন ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিট এই সময়টাতে লেখার জন্য। এবং আপনি যখনই আর্টিকেল লিখা শুরু করবেন তখন নিরিবিলি কোন জায়গায় বসে কাজ করবেন। এবং প্রতিটি পোস্ট সর্বনিম্ন ১৫০০ শব্দের লিখবেন। পোস্ট পাবলিক করার সময় নিম্নে উল্লেখ করা হলো”

সকাল ৯:০০ টা থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত।

দুপুর ৩:০০ টা থেকে ৪:০০ টা পর্যন্ত।

রাত ৯:০০ টা থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত।

লেখকের শেষ মন্তব্য

সঠিক গাইড লাইন, পরিকল্পনা চেষ্টা ও প্রতিনিয়ত প্রাকঠিসের মাধ্যেমে একজন মানসম্মত সফল আর্টিকেল রাইটার হওয়া সম্ভব। বর্তমান সময়ে একজন মানসম্মত আর্টিকেল রাইটার পাওয়া অনেক কঠিন বিষয়। শুরুতে ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ভয় না পেয়ে প্রতিনিয়ত প্রাকটিস বা লেখার অভ্যাস গড়ে ধীরে ধীরে একদিন আপনি নিজেই একজন ভালো দক্ষ আর্টিকেল রাইটার হিসাবে গড়ে উঠবেন। ইংশাআল্লাহ।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সকল বিশ্ব এর নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url